Home আলোচিত সংবাদ জলবায়ু সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে এআই

জলবায়ু সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে এআই

8


ঢাকা অফিস।।

বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসারের সঙ্গে ক্রমেই বাড়ছে ডাটা সেন্টারের সংখ্যা। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির। এতে পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও পরিবেশগত প্রভাব এবার জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠবে বলে জানা গেছে।

সোমবার (৯ নভেম্বর) তুরস্কের আনতালিয়ায় শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম সম্মেলন কপ৩১।

বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, পরিবেশকর্মী ও ব্যবসায়ী নেতারা এতে অংশ নেবেন। সম্মেলনের আগে এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলায় ‘আনতালিয়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্লেজ’ নামে একটি অঙ্গীকারনামা প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এতে স্বেচ্ছায় যুক্ত হতে পারবে।


অঙ্গীকারনামাটির লক্ষ্য এআই প্রযুক্তির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ মোকাবিলা করা। এআই পরিচালনায় বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, ডাটা সেন্টারের জ্বালানি চাহিদা এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য।

তুরস্কের জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম বলেছেন, ‘এআইয়ে বাড়তে থাকা জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা প্রয়োজন। সরকারগুলোর উচিত এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করা। এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং কার্যক্রম পরিচালনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।’

ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের প্রধান ডাটা ও এআই কর্মকর্তা ইভান টাচোভস্কির মতে, এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী নীতিমালা প্রয়োজন। ডাটা সেন্টারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, এআই প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারসহ পরিবেশগত প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বহন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ডাটা সেন্টার নির্মাণের শুরু থেকেই স্থানীয় জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এআইয়ের পাশাপাশি এবারের সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর, বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য ও মিথেন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার ৩৫ শতাংশ বিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণের একটি লক্ষ্যও রয়েছে। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ২০ শতাংশের কিছু বেশি। শিল্প ও বিভিন্ন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এর উদ্দেশ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়নও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি উঠবে।

প্রসঙ্গত, ১০ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইয়োথ ফোরাম লিডার্স প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরার কথা রয়েছে।