স্পোর্টস ডেস্ক
সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত অপরাজিত ১৯০ রানের ইনিংসে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। অষ্টম উইকেটে হৃদয় ও তাইজুল ইসলামের ১১৭ রানের জুটিতে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩১৮ রান তুলেছে স্বাগতিকেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের চেয়ে এখনো ৩৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে রস্টন চেজকে ছক্কা ও চার মেরে সেশন শেষ করেন হৃদয়।
মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে তাইজুল যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন বড় বিপদের মুখে বাংলাদেশ। তার বিদায়ের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ থেকে মাত্র ৫৫ রান দূরে ছিল স্বাগতিকেরা। মধ্যাহ্নবিরতিতে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় এরপর দুর্দান্ত সব শটে ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন। পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে একাধিক কাভার ড্রাইভ ও স্কয়ার কাট খেলেন তিনি। মিডউইকেট থেকে এক্সট্রা কাভার পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে হাঁকান পাঁচটি ছক্কা।
বিরতির পরও একই ধারায় ব্যাট চালিয়ে যান হৃদয়। একদিকে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখা, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই সীমানাছাড়া করার চেষ্টা—দুটিই চালিয়ে যান তিনি। শামার জোসেফকে আপার কাটে চার মেরে শুরু করেন। এরপর চেজকে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান। চেজের পরের ওভারেও পরপর দুটি ছক্কা মারেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য নতুন বল ছিল গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। বিশেষ করে তাইজুলকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর সুযোগ পেলে সেটি কাজে লাগানোর কথা ছিল তাদের। তবে অবাক করে দিয়ে নতুন বল বেশ ভালোভাবেই সামলান তাইজুল। জেডেন সিলস ও জোসেফের বলে শুরুতেই দুটি চার মারেন তিনি।
এরপর একই ওভারে সিলসকে পয়েন্ট দিয়ে চার এবং সোজা ব্যাটে ছক্কা হাঁকান হৃদয়। জোসেফের বলে দৃষ্টিনন্দন ফ্লিকে দেড় শ রান পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেও জোসেফকে দুটি চার মারেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
সিলসের বলে নিজেকে সামলাতে গিয়ে একটি চার পান তাইজুলও। এরপর জশুয়া বিশপকে ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ ছক্কাটি আদায় করেন হৃদয়। ১৭২ রানে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে সিলেটের মাঠে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন তিনি। গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল হাসান জয়ের করা ১৭১ রান ছাড়িয়ে যান হৃদয়।
শেষ পর্যন্ত জোমেল ওয়ারিকানের বলে স্টাম্পড হয়ে ২২ রানে ফেরেন তাইজুল। তবে তার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ৫৬ বল মোকাবিলা করে হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়া। তার বিদায়ে ভাঙে ১১৭ রানের জুটি।
দিনের প্রথম সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের সামনে বেশ বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। টানা দুই ওভারে ওয়ারিকান ফিরিয়ে দেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসকে। মুশফিক এগিয়ে এসে বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন। পরের ওভারে লিটন কাভার দিয়ে বল পাঠানোর চেষ্টা করলে সহজ ক্যাচ নেন ব্র্যান্ডন কিং। মুশফিকের ক্যাচটি তালুবন্দী করেন চেজ, বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের উঁচু হয়ে যাওয়া ল্যাপ সুইপ থেকে দারুণ ক্যাচ নেন জাস্টিন গ্রিভস। স্লিপ থেকে লেগ সাইডের দিকে দৌড়ে গিয়ে ক্যাচটি ধরেন তিনি। পরে হাসান মাহমুদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ওয়ারিকান। তাতে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
তখন ৮১ রানে ব্যাট করছিলেন হৃদয়। চেজকে পরপর একটি ছক্কা ও চার মেরে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি। এরপর আরও দুটি চার মেরে পৌঁছে যান ৯৯ রানে। মধ্যাহ্নবিরতির আগের শেষ ওভারে চার মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেন হৃদয়।











































