Home আঞ্চলিক মুক্তেশ্বরী নদীতে বস্তাবন্দী লাশ

মুক্তেশ্বরী নদীতে বস্তাবন্দী লাশ

9


মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে এক ব্যক্তির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও হাতে থাকা সোনার আংটি ছিনিয়ে নিতে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।


শনিবার সকালে মনিরামপুর-কুলটিয়া সড়কের হেলারঘাট এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নদের পাটায় আটকে থাকা একটি বস্তা দেখতে পান জেলেরা। পরে বস্তাটি পাড়ে তুলে খুলে ভেতরে মরদেহ দেখতে পান তাঁরা।


নিহত রঞ্জন মন্ডল (৬৫) কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের মৃত হরিপদ মন্ডলের ছেলে। মনিরামপুরের পাড়িয়ালি গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের গলায় দাগ রয়েছে। তবে তাঁর শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।


নিহতের শ্যালক নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তাঁর বোন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। রঞ্জন মাছ ধরার সরঞ্জাম বুনে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে ভারতে থাকেন। নারায়ণ চন্দ্র বলেন, শুক্রবার তাঁর ভগ্নিপতির এলাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে যোগ দিতে রঞ্জন বাড়ি থেকে বের হন। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে ওষুধ কিনতে স্থানীয় কাটাখালী বাজারে যান। এরপর আর বাড়ি না ফেরায় রাত ১০টার দিকে স্বজনেরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন। রাতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে হেলারঘাটে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাঁরা রঞ্জনের মরদেহ শনাক্ত করেন।


নারায়ণ চন্দ্র আরও বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় রঞ্জনের গলায় প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং দুই হাতে সোনার ও রুপার দুটি আংটি ছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় হাতে রুপার আংটি পাওয়া গেলেও স্বর্ণের চেইন ও সোনার আংটিটি পাওয়া যায়নি। তাঁদের ধারণা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে ছিনতাইকারীরা তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বস্তায় ভরে নদে ফেলে গেছে।


মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের দেহে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। স্বর্ণের চেইন ও আংটির বিষয়টি তাঁর স্বজনেরা বলেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।