Home জাতীয় সেই বর্ষা হত্যা, স্বামী নাবিদ ২ দিনের রিমান্ডে

সেই বর্ষা হত্যা, স্বামী নাবিদ ২ দিনের রিমান্ডে

0

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

নববধূ জুমরাতুন নেছা বর্ষা হত্যা মামলায় স্বামী নাবিদ হোসাইনকে দুইদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই বাবরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালতের হাকিম রবিবার (৮ নভেম্বর) এই আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম সোবহান বলেন, এদিন আসামি নাবিদকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষ থেকে জামিন চাওয়া হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে মহানগর হাকিম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর নাবিদের সঙ্গে বর্ষার বিয়ের কাবিন হয়। এরপর এক বছরের সংসারজীবনে বেশ কয়েকবার নাবিদের নির্যাতনের শিকার হন বর্ষা, নাবিদ বারবার ব্যাবসার অজুহাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকাও নিয়েছেন। তবু বর্ষা বারবার তার কাছেই ফিরে যান। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই বর্ষার মৃত্যু হয়।

বর্ষার পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতে রাজধানীর মণিপুরিপাড়ার বাসায় বর্ষাকে মারধর করছিলেন স্বামী নাবিদ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রাত ১২টার দিকে বর্ষা তার বাবা শেখ মনোয়ার হোসেনের ফোনে ভিডিও কল করে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘বাবা, আমাকে বাঁচাইতে আসো।’ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে মাুবাবা শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেখানে গেলে নাবিদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়, বর্ষা ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। পরে বর্ষার মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, বর্ষার পরিবার এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মানতে রাজি নয়। তার মা হাসিনা আক্তার জানান, ‘এটা আত্মহত্যা হতে পারে না। মেয়ের যদি আত্মহত্যা করারই হতো, তাহলে তো আমাদের ডাকত না। শেষ ভিডিও কলে মেয়ে চিৎকার করে বলছিল, বাবা আমাকে বাঁচাইতে আসো।’

এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন বর্ষার বাবা শেখ মনোয়ার হোসেন। ঘটনার রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেই নাবিদকে পুলিশে ধরিয়ে দেয় বর্ষার পরিবার। পরে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় বর্ষাকে মারধর করতেন তার স্বামী নাবিদ হোসাইন। বর্ষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বর্ষার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরে হাসপাতাল থেকে নাবিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা শেখ মনোয়ার হোসেন ও হাসিনা আক্তার দম্পতির তিন মেয়ে। তাদের মধ্যে বর্ষা ছিলেন দ্বিতীয়। উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে তেজগাঁও কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন বর্ষা। কলেজে থাকতেই নাবিদ হোসাইনের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।