মিলি রহমান।।
মধুর পুষ্টিগুণ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণে অনেকেই চিনির বিকল্প হিসেবে এটি খেয়ে থাকেন। দেশের বাজারে বোতলজাত মধুর পাশাপাশি খোলাও মধু পাওয়া যায়।
দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্রেতার কাছে খোলা মধুর চাহিদা রয়েছে। তবে দেখতে খাঁটি মনে হলেই মধুর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়া যায় না।
ফলে খোলা মধু কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত সংগ্রহকারী বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে খোলা মধু বাজারে আসে।
অনেক ক্ষেত্রে হাড়ি, বালতি কিংবা গামলায় করে এসব মধু বিক্রি করা হয়। এতে মধুর উৎস, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ কম থাকে।
আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করা হলে মধুর গুণগত মানও নষ্ট হতে পারে। মধুতে ভেজাল মেশানোর প্রচলিত উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে চিনির সিরাপ, কর্ন সিরাপ ও গ্লুকোজ সিরাপ মেশানো। কখনো ভালো মানের মধুর সঙ্গে নিম্নমানের মধু মিশিয়েও বিক্রি করা হয়। শুধু রং, ঘনত্ব বা স্বাদ দেখে এসব ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব নয়। এ জন্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রয়োজন।
ভেজাল মধুতে অতিরিক্ত মিষ্টিকারক মেশানো হলে এর স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ ও উপাদানের অনুপাত বদলে যেতে পারে। ফলে ক্রেতারা প্রকৃত মধুর প্রত্যাশিত পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে অজান্তেই অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ভেজাল মধু গ্রহণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে। এতে রক্তে গ্লুকোজ ও চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি, ওজন বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
শুধু ভেজাল নয়, মধু সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে এবং সংরক্ষণের সময় আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে মধুর গুণগত মান নষ্ট হতে পারে।
তাই মধু কেনার সময় শুধু দাম, রং বা ঘনত্ব বিবেচনা না করে এর উৎস ও গুণগত মান যাচাই করা জরুরি। সম্ভব হলে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বোতলজাত মধু কিনুন। পাশাপাশি পণ্যের লেবেল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং মান সনদের তথ্য যাচাই করুন।











































