বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও মোংলা বন্দরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।
একই সফরে মোংলা বন্দরকে রেলপথে যুক্ত করতে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা আছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে বন্দর ব্যবহারকারী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও তার বন্দরে আগমনকে কেন্দ্র করে বন্দরটির উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পণ্য ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত করা হবে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৪৭৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থায়ন করবে চীনা পক্ষ।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় এ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানিয়েছেন, ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা মনে করেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়। এ জন্য বন্দর চ্যানেলের নাব্য ধরে রাখতে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে দ্রুত এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রয়োজন।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী জানিয়েছেন, বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে চ্যানেলের নাব্য রক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী চীনা কোম্পানির মাধ্যমে মোংলা বন্দরে নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন।
পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেল যোগাযোগসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর ফলে মোংলা বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে রেল যোগাযোগ চালুর পথ তৈরি হবে। এতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ও বিনিয়োগ বাড়বে বলেও জানান তিনি।











































