দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি।।
সুন্দরবনের কোলঘেঁষে খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী, বানিশান্তা ও কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্টের পরিবেশগত আইনগত বৈধতা এবং এসব স্থাপনার কারণে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না তা সরেজমিন ঘুরে দেখেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার রিসোর্টগুলো পরিদর্শনে যান তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী রিসোর্টগুলোর পরিবেশগত প্রভাব, শব্দদূষণ, বন্য প্রাণীর নিরাপত্তা এবং স্থাপনাগুলোর আইনগত সঠিকতা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন এমন ১৮টি রিসোর্ট ও ইকো কটেজের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকদের এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ও বন বিভাগের আওতাধীন জমিতে একাধিক রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এসব স্থাপনায় কোনো অনৈতিক বা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে কি না এবং তার দরুন বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করতেই আমার এই সফর।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রিসোর্টগুলোতে উচ্চ শব্দে জেনারেটর চালিয়ে শব্দদূষণ করা হচ্ছে কি না কিংবা হরিণ শিকারসহ বন্য প্রাণীর ঝুঁকির মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা আইন ভঙ্গ হয় এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট রিসোর্টগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব, সেখানে কেউ বিঘ্ন ঘটালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
রিসোর্ট পরিচালনা সম্পর্কিত নির্দেশনায় তিনি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে বলেন, উপকূলীয় এই এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে। ফলে শব্দদূষণ তৈরি করে জেনারেটর চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। যেহেতু ইসিএ এলাকায় এসব রিসোর্ট তৈরি হয়েছে, সেহেতু এগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না তা সরকারের উচ্চপর্যায়ে যাচাই করা হবে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বনের ওপর প্রত্যক্ষ বড় ধরনের ক্ষতির কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরেজমিনে সংগৃহীত তথ্য ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে দ্রুতই মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে এসব রিসোর্টের বিষয়ে সরকারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।











































