কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেরিয়ে আছে মরিচা ধরা রড। দেয়ালে ফাটল, মেঝেও দেবে গেছে। একপাশে পড়ে আছে নষ্ট চিকিৎসা সরঞ্জাম, অন্যপাশে রোগীর অপেক্ষা। রক্তচাপ মাপতে গিয়ে দেখা যায়, যন্ত্রটি অকেজো। কোথাও ভবন ছেড়ে পাশের বাড়ির বারান্দায়, কোথাও খোলা আকাশের নিচে বসে রোগী দেখছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। খুলনার কয়রা উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলছে চিকিৎসাসেবা। তার ওপর প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট; বন্ধ রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ।
সরেজমিন উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেয়াড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, জ্বর নিয়ে আসা এক শিশুর মাকে প্যারাসিটামল সিরাপ দিচ্ছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আরাফাত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, আগে ক্লিনিকে ২৮ ধরনের ওষুধ পাওয়া যেত। এখন পাওয়া যাচ্ছে ২২ ধরনের। মেট্রোনিডাজল, অ্যামোক্সিসিলিনসহ অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলার কয়রা সদর ইউনিয়নের উত্তর মদিনাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনও ব্যবহারের অনুপযোগী। আট মাস ধরে পাশের একটি বাড়ির বারান্দায় রোগী দেখছেন সিএইচসিপি প্রকৃতি গাইন। প্রতিদিন সেখানে ৩৫-৪০ জন রোগী আসেন। কখনো খোলা আকাশের নিচেও সেবা দিতে হয় তাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় এ এলাকায় পেটের পীড়া ও চর্মরোগের প্রকোপ থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। ক্যালসিয়াম ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধেরও সংকট রয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে।
উপজেলায় অনুমোদিত কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা ৩২। এর মধ্যে ৩১টির ভবন রয়েছে। এসব ভবনের ২২টিই ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তর মদিনাবাদ ও হরিহরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা চলছে অন্যের বাড়িতে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। উত্তর মদিনাবাদ, হরিহরপুর ও বেচপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন পুনর্নির্মাণ জরুরি। ওষুধের সংকট কিছুটা কমলেও অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ এখনো বন্ধ রয়েছে।











































