ক্রীড়া প্রতিবেদক
উইকেট পেলেও হাসান মাহমুদ সেভাবে উদযাপন করেন না; কেননা ব্যাটসম্যান কষ্ট পাবেন। তবে বাংলাদেশের পেসার খুশি। আনন্দের ঝিলিক তার চোখে মুখে। এটা অর্জনের। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। টানা তিন বলে আফগানিস্তানের তিন ব্যাটসম্যান— ইসমত, কায়েস ও জিয়াউরের উইকেট তুলে নিয়েছেন। আবুধাবিতে গতকাল টেস্টের তৃতীয় দিনে শুধু হ্যাটট্রিকই নয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন হাসান। তবে মাটিতেই পা রাখছেন ২৬ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার। নিজের বোলিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু অনুভব করছিলাম যে আমার সোজা বল করা উচিত, ব্যস এটাই। বাকি কাজ নিজে থেকেই হয়ে গেছে, তাই আমি কেবল অফ স্টাম্পের লাইন ধরে বল করে গেছি এবং এটা নিজের মতো কাজ করেছে। সবসময় এভাবেই খেলে যেতে চাই। সামনে ঘরের মাঠে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আছে, আবার সাউথ আফ্রিকায় টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাব, তাই সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি।’ জিয়াউর রহমানের উইকেটের জন্য ৬ সেকেন্ড বাকি থাকতে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে সফল। এলবিডব্লিউ আউট হন জিয়া। এতেই হ্যাটট্রিক হয়ে যায় হাসানের। এ জন্য তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তকেও।
তিনি বলেন, ‘বল সরাসরি প্যাডে লেগেছিল এবং একদম সোজা ছিল। তারপর আমি লিটনের সঙ্গে কথা বলি, ও বলল, ‘হ্যাঁ, এটা হয়তো উইকেটে হিট করবে, বলটা ব্যাকফুটে ছিল।’ এরপর আমরা রিভিউ নিলাম। আপনারা দেখেছেন প্রথম ইনিংসে আমরা দু-একটা রিভিউ হারিয়েছিলাম, তাই সবাই ডিআরএস নিয়ে ভাবছিল যে কী হতে যাচ্ছে— উইকেটে হিট করবে কি করবে না! তো হ্যাঁ, এটার কৃতিত্ব অধিনায়ক (নাজমুল হোসেন শান্ত) ও লিটন দাসকে দিতে হবে।’
দ্বিতীয় দিন শেষে ভালো অবস্থানেই ছিল আফগানিস্তান। ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে গতকাল তৃতীয় দিন ইনিংস শুরু করেছিল তারা। এদিন স্কোরকার্ডে ২৯ রান যোগ করতে বাকি ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ২৪০ রানে গুটিয়ে গেলে বাংলাদেশ লিড পায় ১০৬ রানের। দুই পেসার হাসান ও এবাদত মিলে নিয়েছেন ৯ উইকেট। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭২ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তাতে লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯।
টপঅর্ডারে কেউ ফিফটি না পেলেও নাজমুল শান্ত ৮২ ও মুশফিকুর রহিম ৮১ রান করেন। ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে এ জুটি ১৫৯ রান জমা করেন। এরপরই ছন্দপতন। দলীয় ২১২ রানে মুশফিকের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শান্ত ও হাসান মাহমুদ যখন ফেরেন দলীয় রান তখন ২২৩। শেষ সময়ে লিটন (৫) ও মিরাজ (০) অপরাজিত আছেন।











































