স্পোর্টস ডেস্ক
মাজ সাদাকাতের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর সাহিবজাদা ফারহানের ঝড়ো ইনিংসে শ্রীলংকাকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান। সাদাকাতের ৫১ বলে ৯৬ এবং ফারহানের ৪৪ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৫ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলংকা ৭ উইকেটে ১৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ৮২ রানের বড় জয় নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান।
ইনিংসের শেষ ১২ ওভারে ১৫৬ রান তুলে শ্রীলংকার বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালায় পাকিস্তান। সাদাকাত ও ফারহানের ৭৩ রানের জুটির পর সাদাকাত ও হাসান নেওয়াজ মিলে যোগ করেন আরও ৭২ রান। দুই জুটির দাপটেই বিশাল সংগ্রহ পায় স্বাগতিকেরা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে শ্রীলংকা। একাদশ ওভারের মধ্যে ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা। দলের প্রথম সাত ব্যাটারের কেউই ৩০ রানের ঘর পেরোতে পারেননি। পাকিস্তানের দুই পেসার মোহাম্মদ ইমরান ও সালমান মির্জার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোর স্বপ্নও শেষ হয়ে যায় শ্রীলংকার।
রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিংসহায়ক উইকেটে সপ্তম ওভার শেষে ১ উইকেটে ৫৫ রান তুলে ভালো ভিত গড়ে পাকিস্তান। তবে দলকে বিশাল সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেওয়ার মূল কাজটি করেন সাদাকাত। ইনিংসের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও পরে রীতিমতো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি।
ঈশান মালিঙ্গার বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে বড় শটের সূচনা করেন সাদাকাত। দশম ওভারে একই বোলারকে সীমানার বাইরে পাঠান আরও একবার। এরপর একের পর এক চার-ছক্কায় শ্রীলংকার বোলারদের দিশেহারা করে তোলেন এই ব্যাটার।
ইনিংসে আরও ছয়টি ছক্কা ও পাঁচটি চার মারেন সাদাকাত। তার বড় শটগুলোর বেশির ভাগই ছিল সোজা ব্যাটে, আর চারগুলো এসেছে উইকেটের দুই পাশে খেলে। ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তানের করা ১২৫ রানের মধ্যে ৪০ বলে ৭৯ রানই আসে তার ব্যাট থেকে। পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই সমান দাপট দেখান তিনি।
মাহিশ থিকশানার করা ১৬তম ওভারে লং অন ও মিডউইকেটের মাঝামাঝি অঞ্চলে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকান সাদাকাত। তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৫০ রানের। এবার সেঞ্চুরির খুব কাছেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংসের শেষ বলে মালিঙ্গার ধীরগতির ডেলিভারিতে ডিপ কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৯৬ রানেই থামতে হয় তাকে।
রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ফারহান। শুরুতে কিছুটা দেখে খেললেও স্পিনাররা বোলিংয়ে আসার পর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি।
সপ্তম ওভারে থিকশানাকে সুইপ করে প্রথম ছক্কাটি মারেন ফারহান। নবম ওভারে একই বোলারের বলে টানা দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের জানান দেন তিনি। ৩১ বলে পূর্ণ করেন টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দ্বাদশ অর্ধশতক।
এরপর পেসারদের বিপক্ষেও বড় শট খেলতে শুরু করেন ফারহান। তবে ১৫তম ওভারে দাসুন শানাকার বলে ডিপ থার্ড অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ৭৩ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানের বিশাল সংগ্রহ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলংকা। প্রথম ওভারে সালমান মির্জার দুর্দান্ত বাউন্সারে গ্লাভসে বল লেগে আউট হন লাহিরু উদারা। ৫ রানেই বিদায় নেন এই ব্যাটার, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন।
নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা সিনেথ জয়াবর্ধনে তৃতীয় ওভারে টানা তিনটি চার মারলেও শ্রীলংকার ইনিংসে গতি আসেনি। প্রথম ছয় ওভার শেষে ২ উইকেটে মাত্র ৩৫ রান তুলতে পারে তারা।
মোহাম্মদ ইমরানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাঝের ওভারগুলোতে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে শ্রীলংকার ব্যাটিং। চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এই পেসার, যা ম্যাচের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।
দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে জয়াবর্ধনেকে টপ এজে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ইমরান। এরপর ধীরগতির বলে কুশল মেন্ডিসকে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। এর দুই বল পরই দ্রুতগতির বলে সীমানা পেরিয়ে আসা ডেলিভারিতে সাহান আরাচ্চিগের ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে দেন। উইকেটরক্ষক খাজা নাফে দারুণ দুটি ডাইভিং ক্যাচ নিয়ে সুযোগগুলো কাজে লাগান।
নিজের টানা বোলিং স্পেলে ইমরান এতটাই নিয়ন্ত্রিত ছিলেন যে, ভালো ব্যাটিং উইকেটেও তার বলে স্বচ্ছন্দে রান তুলতে পারেননি শ্রীলংকার ব্যাটাররা। গতি পরিবর্তনের পাশাপাশি লাইন ও লেংথেও অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখান তিনি। দশম ওভারে তার স্পেল শেষ হওয়ার সময় শ্রীলংকার প্রয়োজনীয় রান তোলার হার ১৫ ছাড়িয়ে যায়।
শেষ দিকে চামিন্দু বিক্রমাসিংহে ও থিকশানা কয়েকটি বাউন্ডারি মারলেও ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে শ্রীলংকা। শেষ পর্যন্ত ৮২ রানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। দুর্দান্ত ব্যাটিং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতে পাকিস্তান।











































