Home আঞ্চলিক নড়াইলে ১১৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ

নড়াইলে ১১৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ

4


নড়াইল প্রতিনিধি ||

নড়াইল সদর উপজেলার শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বসতবাড়ির প্রাচীরের মাঝে সরু একটু জায়গা। একদল কোমলমতি শিক্ষার্থী সেখানে ছুটাছুটি করছে। কয়েকজন বসে আছে বারান্দার সিঁড়িতে। শ্রেণিকক্ষেও কিছু শিক্ষার্থী বসে সময় কাটাচ্ছে। খেলার মাঠ না থাকায় ক্লাসের ফাঁকের সময়টুকু খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিনে নড়াইল সদর উপজেলার শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। শুধু শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, নড়াইল জেলায় এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১৫টি। খেলার মাঠ না থাকায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলায় ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। লোহাগড়া উপজেলায় ১৬৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬টিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ১৫৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই।

শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইতিকা বিশ্বাস জানান, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাও খুবই জরুরি। আমাদের স্কুলে খেলার মাঠই নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা খেলতে পারে না, খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে না। আমার স্কুলের সাথেই একটি রাস্তা। অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা দৌড়ে রাস্তার ওপর চলে যায়। এতে বিপদ হতে পারে। স্কুলে একটি খেলার মাঠ জরুরি প্রয়োজন।

আগদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা জানায়, আমাদের স্কুলে খেলার মাঠ নেই। আমরা স্কুলে এসে খেলাধুলা করতে পারি না। খেলাধুলার জন্য আমাদের অন্য স্কুলে নিয়ে যায়। আমরা একটি খেলার মাঠ চাই।

আগদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্কুলে খেলার মাঠ নেই। শিক্ষার্থীরা খেলার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। তারা নতুন কুঁড়িতে অংশ নিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, খেলাধুলার জন্য কোনো মাঠ নেই। মাঠ থাকলে ছেলে-মেয়েরা হয়তো আরো ভালো করত।

নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম ৩৩ শতক জমি প্রয়োজন। তবে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ ছোট, আবার কোনো কোনোটির মাঠ বড়। নদীভাঙনের কারণে কয়েকটি বিদ্যালয়ের জায়গা কমে গেছে।

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেসব শিক্ষার্থী পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জায়গায় খেলাধুলা করে। মাঠসংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে।