খুলনার সাংবাদিকতা অঙ্গনে সাইফুল্লাহ তারেক একজন সুপরিচিত, বস্তুনিষ্ঠ ও প্রতিবাদী মুখ। দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক প্রবাহের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সামাজিক অন্যায়, পরিবেশ রক্ষা এবং দুর্নীতি-মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই যেন তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে চাদাবাজির মতো ভিত্তিহীন মামলা দায়ের এবং পরবর্তীতে তাঁর নাবালক সন্তানকে পুলিশ কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুলনা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার গভীরে তাকালে আসল সত্যটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি খুলনা নগরীর গফ্ফার ফুড মোড়ে জনবহুল স্থানে মাংস বিক্রেতা আরমান শেখ পশু জবাই করে রক্ত ও বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষিত করছিলেন। স্থানীয় দোকান মালিক সমিতি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখে সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইফুল্লাহ তারেক বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্বার্থে দোকান স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু এই যুক্তিসঙ্গত সামাজিক উদ্যোগকে পুঁজি করে পুলিশ ও মাদক চক্রের যোগসাজশে উল্টো তাঁর নামেই চাঁদাবাজির একটি সাজানো মামলা দেওয়া হয়। এমনকি এজাহারে একজন সৎ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিককে ‘মাদকসেবী’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে, যা চরম হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সবচেয়ে জঘন্য বিষয় হলো, পুলিশি অভিযানের নামে গত সোমবার সাইফুল্লাহ তারেককে বাসায় না পেয়ে তাঁর মাদ্রাসাপড়ুয়া নাবালক সন্তানকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া। একজন আইনের রক্ষক যখন আইনের সীমা লঙ্ঘন করে বাবার অপরাধ প্রমাণের আগেই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে জিম্মি করে, তখন পুলিশের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। যদিও শিশু অধিকার কর্মীদের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, কিন্তু ওই কিশোর ও পরিবারের ওপর যে মানসিক নির্যাতন এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা হলো, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
স্থানীয়দের বক্তব্য পরিষ্কার-এলাকার মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং থানার কিছু প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশের খেসারত দিতে হচ্ছে সাংবাদিক তারেককে। সত্য প্রকাশ করলে এবং সমাজের অসংগতির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে কণ্ঠরোধ করার এই পুরনো হাতিয়ার আজ খুলনার গণমাধ্যমকর্মীদের নতুন করে আশঙ্কিত করে তুলেছে।
একজন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের পরিকল্পিত ও মিথ্যা মামলা শুধু সাইফুল্লাহ তারেকের ওপর হামলা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ভিত্তিহীন এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা এবং একজন নাবালক সন্তানকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখার পেছনে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে খুলনার সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ। সত্যের জয় হবেই, আর মিথ্যার ওপর দাঁড়ানো সাজানো অভিযোগ শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়বে ইনশাল্লাহ।
-মিজানুর রহমান মিলটন











































