Home স্বাস্থ্য ২০ বছর পরও সুস্থ থাকতে চান? আজ থেকেই বদলান খাবারের অভ্যাস

২০ বছর পরও সুস্থ থাকতে চান? আজ থেকেই বদলান খাবারের অভ্যাস

2

মিলি রহমান।।

সুস্থভাবে খাওয়ার অর্থ শুধু ওজন কমানো কিংবা কঠোর কোনো ডায়েট অনুসরণ করা নয়। প্রতিদিন আমরা কী ধরনের খাবার খাচ্ছি, সেটিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীর ও মনের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জির মতে, দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে হলে প্রতিটি খাবারের দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রতিদিন সকালে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ছোট্ট অভ্যাসের মাধ্যমে সারাদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা যায় এবং শেষ মুহূর্তে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতাও কমে।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে খাবারকে কীভাবে দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন অঞ্জলি মুখার্জি।

তার পরামর্শ অনুযায়ী, দিন শুরু করা যেতে পারে দুই গ্লাস পানি পান করে। এরপর আমিষভোজীরা ডিম এবং নিরামিষভোজীরা স্প্রাউটস খেতে পারেন। এর সঙ্গে এক গ্লাস সবজির জুস রাখা যেতে পারে।

দুপুরের খাবারে জোয়ার বা নাচনি রুটি, সবজি এবং নিরামিষভোজীদের জন্য ডাল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আমিষভোজীরা ডালের পরিবর্তে মুরগি বা মাছ খেতে পারেন। বিকেলে গ্রিন টি-এর সঙ্গে ছোলা খাওয়া যেতে পারে।

রাতের খাবারেও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। তার মতে, মুরগি বা মাছের সঙ্গে স্যুপ ও সালাদ খাওয়া যেতে পারে। আবার রুটি, সবজি, ডাল ও সালাদও হতে পারে রাতের খাবারের অংশ।

অঞ্জলি মুখার্জির মতে, এভাবে খাবারের পরিকল্পনা করলে প্রতিটি খাবারে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য রাখা সম্ভব।

স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো ২৪/৭-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক বা নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রভাবই ফেলতে পারে।

সঠিকভাবে খাবার খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। বিপরীতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

খাবারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। ওমেগা-৩ ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই প্রতিটি খাবারই হতে পারে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার একটি সুযোগ। নিয়মিত খাবারের পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।