Home আঞ্চলিক বাবা সাংবাদিক, ক্ষোভের বলির পাঁঠা ১৬ বছরের সন্তান: খুলনায় পুলিশের কর্মকাণ্ডে তোলপাড়

বাবা সাংবাদিক, ক্ষোভের বলির পাঁঠা ১৬ বছরের সন্তান: খুলনায় পুলিশের কর্মকাণ্ডে তোলপাড়

79

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় দৈনিক প্রবাহের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফুল্লাহ তারেককে গ্রেফতার করতে না পেরে তাঁর ১৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে নগরীর গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার নিজ বাসা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর মধ্যস্থতায় পরিবারের জিম্মায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী কিশোর গিলাতলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং পাশাপাশি হেফজ বিভাগে পড়ালেখা করছে। পুলিশের এমন আচারে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছে।

ভুক্তভোগীর মা সুমনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “সোমবার দুপুরে বাড়িতে পুলিশ এসে অভিযান চালানোর নামে পরিবারের সদস্যদের সাথে গালাগাল ও চরম দুর্ব্যবহার করে। অন্য সদস্যদের মারতেও উদ্যত হয় তারা। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার আমার সন্তানের সামনে তার বাবার নাম ধরে গালাগাল করেন। ওসির প্রত্যক্ষ নির্দেশেই আমার নাবালক ছেলেকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।”

স্থানীয় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, সাইফুল্লাহ তারেক সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয় নানা সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত। সম্প্রতি এলাকার চিহ্নিত এক মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং থানার ওসির অনিয়ম নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করায় পুলিশ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এর জের ধরে গত শনিবার গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইফুল্লাহ তারেকসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি বিতর্কিত চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করেন ওসি। এজাহারে সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে ‘মাদকসেবী’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়।

সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক অভিযোগ করেন, “তদন্ত না করেই ওসি অতিউৎসাহী হয়ে ভিত্তিহীন মামলাটি গ্রহণ করেন। সোমবার ওই মামলার বাদী ও তার লোকজনকে সাথে নিয়েই পুলিশ আমার বাড়িতে তাণ্ডব চালায় এবং আমাকে না পেয়ে আমার নাবালক ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়।”

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু বলেন, “মামলা হলে পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করবে। কিন্তু বাবাকে না পেয়ে ১৬ বছরের এক নাবালক ছেলেকে পুলিশ কোনোভাবেই ধরে নিয়ে যেতে পারে না। এ ঘটনায় পুলিশের অতিউৎসাহী ভূমিকা ও অনিয়ম স্পষ্ট। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচার হওয়া উচিত।”

তবে যাবতীয় গালাগাল ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার দাবি করেন, “উক্ত ছেলে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিল ও পুলিশকে গালাগাল করেছিল, তাই তাকে থানায় আনা হয়। পরে পরিবার জন্মসনদ দেখালে তার বয়স ১৬ বছর নিশ্চিত হওয়া যায় এবং প্রবেশন অফিসারের জিম্মায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”