Home Lead ছেলে হত্যার দেড় মাসের মাথায় বাবাকে গুলি করে হত্যা

ছেলে হত্যার দেড় মাসের মাথায় বাবাকে গুলি করে হত্যা

3

স্টাফ রিপোর্টার।।


জয় হত্যার রহস্যের জট না খুলতেই এবার তার বাবা আক্তার ঢালীও একই এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হলেন। একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দেড় মাস আগে একই এলাকায় আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালী (২৭) হত্যার ঘটনার পর এবার বাবাকেও একইভাবে হত্যার ঘটনায় দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ এখনো কোনো যোগসূত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দূর্জনীমহল এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে বেঞ্চে বসে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়। মৃত ব্যক্তির নাম আক্তার ঢালী। তিনি দুর্জনীমহল গ্রামের বাসিন্দা ও আইচগাতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।


স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি বেঞ্চে বসেছিলেন আক্তার ঢালী। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। বাইরে এসে তারা আক্তারকে বেঞ্চের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী মুরাদ হোসেন জানান, আক্তার ঢালীর ডান পাশের কাঁধের গোড়ার দিকে গুলির আঘাত রয়েছে। শরীরে ছররা গুলির আঘাতও থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শর্টগান দিয়ে গুলি করা হয়ে থাকতে পারে।


পুলিশ জানিয়েছে, আক্তার ঢালীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এবং কি কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই এলাকার শহীদের মোড়সংলগ্ন দূর্জনীমহলের সামনে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীর ওপর হামলা চালায় ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল। হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আসছে। সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছর খুলনা জেলার ৯টি থানায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রূপসায় উপজেলাতেই হয়েছে ১২টি।
নিহত জয় ঢালীকে নিয়ে গুজবে ছাত্রদলের নিন্দা : সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মোঃ জয় ঢালীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা ভিত্তিহীন গুজব প্রচার করায় রূপসা উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে এ প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।


ছাত্রদলের নেতারা বলেছেন, জয় ঢালী রূপসার দুর্জনীমহল এলাকার আক্তার ঢালীর ছেলে। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রূপসা উত্তর উপজেলা শাখার সক্রিয় কর্মী ছিল। গত ১৫ই আগস্ট রাতে তার বাড়ির পাশে শহিদের মোড়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী দ্বারা হত্যা শিকার হয়েছেন। বিগত স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে তার ভুমিকা ছিল অপরিসীম, খুলনার রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের সে ছিলো সাহসী বীর,মামলা হামলা পুলিশের বুলেটের সামনে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছে ছাত্রদল রূপসা উত্তর উপজেলা শাখার অধীনে থেকে, আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকবার পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। ২৫ দিন জেল হাজতে ছিলেন। একই মামলায় তার পিতা মোঃ আক্তার ঢালি (৩০নং আসামী) ২৫ দিন জেল হাজতে ছিলেন। তার বড় ভাই মোঃ লিটু ঢালী (২৯নং আসামী) একই মামলার আসামী,জয় ঢালী একজন জাতীয়তাবাদের আদর্শের সৈনিক ছিলেন এমনকি তার পরিবারের সদস্যরা জাতীয়তাবাদের আদর্শে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সংগ্রাম করেছে এবং তারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মৃত মো: জয় ঢালী এবং তার পরিবার বিএনপির আদর্শের পরিবার, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী দ্বারা জয় ঢালী হত্যা শিকার হয়েছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান করছি।


খুলনা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ইমতিয়াজ আলী সুজন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জয় ঢালীকে নিয়ে অপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।