Home আঞ্চলিক ডুমুরিয়ার বালিকা বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষকসহ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য

ডুমুরিয়ার বালিকা বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষকসহ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য

1

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি।।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে নেই কোনো নারী শিক্ষকও। ফলে ২৭০ ছাত্রী নিয়ে চলা বিদ্যালয়টিতে পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক নানা বিষয়ে পুরুষ শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বস্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ব্যবসা বিজ্ঞান-১, ভৌতবিজ্ঞান-১, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক, পিয়ন, নৈশপ্রহরী ও আয়া। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৯ জন পুরুষ শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলার গুটুদিয়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন শেখ বলেন, ‘স্কুলের মেয়েরা শুধু একজন নারী শিক্ষকের কাছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আবেগ ও উদ্বেগের কথাগুলো বলতে পারে। অথচ মেয়েদের স্কুলে নেই নারী শিক্ষক। বললে সারবে কিনা জানি না। এমন পরিস্থিতির শিকার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যেন দেখার কেউ নেই।’

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারীশিক্ষার প্রসারে ডুমুরিয়া ‘যুব সংঘ’ ও এলাকার কিছু উদ্যোগী মানুষ ১৯৭৭ সালে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ দিকে ২ একর ৩৭ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৮ সালে ডুমুরিয়ার সন্তান সাবেক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল এইচ এম এ গফফারের (বীরউত্তম) উদ্যোগে বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে কখনও নারী শিক্ষকের সংকট ছিল না। তবে শিক্ষকদের বদলি ও অবসরজনিত কারণে ২০২৪ সালের জুন থেকে বিদ্যালয়টিতে কোনো নারী শিক্ষক নেই।

এদিকে সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ আহমেদ অবসরে যান। এরপর পর্যায়ক্রমে চারজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দশম, অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী জানায়, বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক নানা বিষয়ে তারা পুরুষ শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। বিদ্যালয়ে দ্রুত নারী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি সবিতা সরকারকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।