চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।
চুয়াডাঙ্গায় মসজিদে নামাজ পড়া ও রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার জেরে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার শরীরে ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও দুজনের শরীর ঝলসে গেছে।
গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের পুকুরপাড়া মোড়ে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
ঝলসে যাওয়া প্রধান ভুক্তভোগী হাসানুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং শঙ্করচন্দ্র গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় ঝলসে যাওয়া অন্য দুজন হলেন একই এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৪২) ও হাসান (৩২)। তাঁদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রদল নেতা হাসানুজ্জামান অভিযোগ করে জানান, রাতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসেথাকার সময় আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতান বিএনপি, স্থানীয় দলীয় নেতৃত্ব এবং মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে কটূক্তি করেন। হাসানুজ্জামান এর প্রতিবাদ জানালে রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে সুলতান চায়ের দোকানের কেটলিতে থাকা ফুটন্ত গরম পানি তাঁর শরীরে ঢেলে দেন।
এ সময় পাশে থাকা সিরাজুল ও হাসান তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁদের শরীরেও গরম পানি ছিটকে পড়ে। এতে তিনজনের শরীরই ঝলসে গেছে। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত সুলতান এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সুলতান শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আত্তাব হোসেনের ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল শনিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান জেলা যুবদলের সভাপতি শরীফ উর জামান সিজার। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনজনের শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে গেছে। বর্তমানে তাঁদের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










































