Home আঞ্চলিক খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, বিপাকে সাগরদাঁড়ীর শিক্ষার্থীরা

খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, বিপাকে সাগরদাঁড়ীর শিক্ষার্থীরা

0


কেশবপুর প্রতিনিধি।।


বাংলায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ীর মধুপল্লী। যেখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসেন সাহিত্যের ছায়াঘেরা পরিবেশ ও ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে। ঠিক সেখানেই চোখ কপালে ওঠার মতো এক করুণ ও নির্মম দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

রোদ, বৃষ্টি আর ধূলোবালির মধ্যে কখনো খোলা আকাশ বা বড় গাছের নিচে, কখনো ফুটপাতে, আবার কখনো অন্যের ভবনের বারান্দায় পলিথিন টানিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই চরম দুর্ভোগ এখন প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী। রঙিন স্বপ্ন নিয়ে যেসব শিশুর বিদ্যালয়ে আসার কথা, তারা আজ খোলা আকাশের নিচে কাদা-ধূলো মেখে ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই করছে।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সরকারিভাবে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটিকে জরাজীর্ণ ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ। ভবন পরিত্যক্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মেই বিকল্প কোনো অস্থায়ী শেড বা ভবনের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও দীর্ঘ এক বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি।


ফলে বাধ্য হয়েই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খোলা মাঠ বা গাছের তলায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান শুরু করেন শিক্ষকরা।

এখন তীব্র রোদ হোক কিংবা বর্ষার মুষলধারার বৃষ্টি সব পরিস্থিতিতেই চরম বিপাকে পড়ছে শিশুরা। রোদ বাড়লে তীব্র গরমে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, আবার বৃষ্টি নামলে বই-খাতা গুটিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটতে হচ্ছে তাদের। অনেকসময় ক্লাস চলাকালীন আচমকা বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় পুরো পাঠদান। এই অবর্ণনীয় কষ্টের কারণে অনেক অভিভাবকই এখন আর তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না, ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানী দাস বলেন, ‘গাছতলায় বসে ক্লাস করার সময় রোদের তাপে মাথা ধরে যায়, খুব গরম লাগে। আর হঠাৎ বৃষ্টি আসলে বই-খাতা সব ভিজে যায়, তখন দৌড়ে অন্যের বাড়ি বা দোকানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সুন্দর ঘরে বসে পড়াশোনা করে, আর আমাদের ফুটপাতে আর গাছের নিচে বসে পড়তে হয়। আমরা নতুন ভবন চাই, যাতে নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারি।’

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন্নেসা বলেন, ‘ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর আমাদের কাছে শিশুদের নিরাপত্তাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়েই কোমলমতি শিশুদের নিয়ে কখনো গাছের তলায়, কখনো ফুটপাতে বা অন্যের ভবনে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এতে রোদ-বৃষ্টির ভোগান্তিতে পড়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং স্কুলে উপস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। জরুরীভাবে একটি স্থায়ী নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করা হলে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাগরদাঁড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প তৈরি করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই প্রশাসনিক অনুমোদন পাব।’