বিনোদন ডেস্ক
‘সিটি অব ড্রিমস’ মুম্বাইয়ে প্রতিদিনই স্বপ্ন নিয়ে পা রাখেন হাজারো মানুষ। কেউ হারিয়ে যান ব্যস্ত নগরীর ভিড়ে, কেউ আবার নিজের জায়গা তৈরি করে নেন। ভারতীয় কমেডিয়ান শেরন ভার্মার গল্পটা দ্বিতীয়টির। চার বছর আগে চাকরির সন্ধানে মুম্বাইয়ে আসা শেরন এখন পরিচিত একজন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান।
মুম্বাইয়ে আসার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজের যাত্রার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন শেরন। তিনি জানান, চার বছর আগে হটস্টারে লেখার চাকরি নিয়ে মুম্বাইয়ে পা রাখেন। তখন তার পকেটে ছিল মাত্র ১০০ রুপি। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সঞ্চয় ছিল ১ লাখ ২০ হাজার রুপি। মুম্বাইয়ের প্রথম দিনগুলো অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। অফিসে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত লোকাল ট্রেনে চড়তেন তিনি। শেরন জানান, এই যাত্রা অনেক সময় তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলত। তবে অফিস থেকে দেখা মুম্বাইয়ের আকাশরেখার দৃশ্য সেই কষ্ট কিছুটা ভুলিয়ে দিত।
চাকরির পাশাপাশি লেখালেখিতেও ধীরে ধীরে পরিচিতি পান শেরন। রণবীর কাপুর, রবীনা ট্যান্ডন, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, রাঘব জুয়াল, ভিকি কৌশল, কিয়ারা আদভানি ও ভূমি পেডনেকারের মতো তারকাদের জন্য লেখার সুযোগ পান তিনি। বিদ্যা বালানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শেরন। নিজের কর্মজীবনে ম্যানেজারের সহযোগিতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। শেরন বলেন, নিজের কাজ ও আইডিয়া ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে তিনি খুব একটা পারতেন না। তাই তার ম্যানেজার বার্ষিক রিভিউ তৈরিতে সহযোগিতা করতেন, যাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তার কাজ ও ভাবনাগুলো পৌঁছায়।
২০২৪ সালে ওপেন-মাইক অনুষ্ঠানে কমেডি করা শুরু করেন শেরন। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণকালীন চাকরি ছেড়ে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। সামাই রায়নার ‘ইন্ডিয়া গট ল্যাটেন্ট’-এর প্রথম সিজনে ‘উইক ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওমেন’ নিয়ে তাঁর কমেডি সেট ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে একই অনুষ্ঠানে বিচারকের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে।
তবে সম্প্রতি সামাই রায়নার সঙ্গে কথোপকথনে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাস্তুচ্যুতি প্রসঙ্গ টেনে তার একটি মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি করে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তব ট্র্যাজেডি নিয়ে এমন রসিকতার সমালোচনা করেন। ফলে প্রশংসার পাশাপাশি বিতর্কও শেরনের যাত্রার অংশ হয়ে উঠেছে।










































