সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় যুগিখালী ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বছরের প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস থাকে জলাবদ্ধ। বিদ্যালয়ের মাঠ ও চারপাশ দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ডুবে থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় অনেকেই পিছলে পড়ে যাচ্ছে। এতে জামাকাপড় নোংরা হওয়ার পাশাপাশি বই-খাতা ভিজে নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। শৌচাগারে যাওয়ার পথ পানিতে তলিয়ে থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এতে নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ।
এ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরীন জাহান মিম জানায়, স্কুলে আসার পথে পানি জমে থাকায় প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। পড়ে গিয়ে কাপড় নোংরা হয়, বই ভিজে যায়। মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকায় খেলাধুলাও করা যায় না।
অপর শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, জমে থাকা পানির কারণে ঠিকমতো ওয়াশরুমেও যেতে পারে না শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘদিনের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও জমে থাকা পানিতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। অনেক শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে।
অনেক অভিভাবক সন্তানদের এমন পরিবেশে বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি জলাবদ্ধ থাকায় শুধু বিদ্যালয়ের পরিবেশ নয়, আশপাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না গেলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবগত করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আহাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত মাঠে মাটি ভরাট অথবা কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া মাত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রাখলেই হবে না, দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে মাঠ ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।










































