খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। তবে শেষ হয়নি নতুন দ্বিতল স্টেশন ভবনসহ সম্পূর্ণ কাজ। ফলে বাড়ান হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। কয়েক দফা বন্ধের পর নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। তবে স্টেশন ভবনের প্লাস্টার, টাইলস, রং ও ফিনিশিংসহ বহু কাজ এখনো বাকি। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। সেই স্টেশনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো বদলে আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন দ্বিতল স্টেশন ভবন, প্রশস্ত প্ল্যাটফর্ম, ছাউনি, যাত্রীদের অপেক্ষার স্থানসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা যুক্ত করার জন্য প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরটিসি ও এসএইচজে জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয় ৫৪০ দিন। সেই হিসাবে ২০২৫ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহেই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দেড় বছর পরেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।
এদিকে বছরের পর বছর ধরে চলা নির্মাণকাজে আধুনিক স্টেশনের অপেক্ষার পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তিও দীর্ঘ হচ্ছে। পুরোনো প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলায় কমেছে বসার জায়গা। সংকট রয়েছে ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারের। মূল ভবনের বাইরে অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার চালু থাকায় নতুন ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের অনেকেই পড়ছেন বিভ্রান্তিতে। সীমিত পরিসরে চালাতে হচ্ছে স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রমও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন প্ল্যাটফর্মের নির্মাণকাজ অনেকটা এগিয়েছে এবং ছাউনির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে নতুন দ্বিতল ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো চলছে নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ। কোথাও প্লাস্টার, কোথাও টাইলস, আবার কোথাও রং ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে।
নির্মাণকাজের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা। ট্রেনের অপেক্ষায় পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকায় অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ট্রেন বিলম্বিত হলে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে বাড়তি বিড়ম্বনায়।
স্টেশনের যাত্রী জুবায়ের কাজল বলেন, ‘কাজ শুরুর সময় ভেবেছিলাম নির্ধারিত সময়েই আধুনিক স্টেশন পাব। কিন্তু কয়েক বছর পরও কাজ শেষ হয়নি। নির্মাণকাজ চললেও যাত্রীদের বসার জায়গা, টয়লেট ও টিকিটের ব্যবস্থা সহজ রাখা উচিত। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, ‘নির্মাণকাজ চলায় যাত্রীসেবা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। সীমিত জায়গার মধ্যেই কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে যতটা সম্ভব যাত্রীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কাজ শেষ হলে এসব সমস্যা থাকবে না।’
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নকশাসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে মাঝখানে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে নিয়মিত কাজ চলছে। ভবনের মূল কাঠামোর কাজ অনেকটাই শেষ হয়েছে। প্লাস্টার, টাইলস, রংসহ কিছু ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’
যাত্রীদের প্রত্যাশা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করে আধুনিক অবকাঠামোর সঙ্গে নিশ্চিত হোক স্বাভাবিক, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রীসেবা।










































