Home আন্তর্জাতিক হুমকির মুখে মজুদ ডিজেল ছাড়ছে ইউরোপ

হুমকির মুখে মজুদ ডিজেল ছাড়ছে ইউরোপ

7

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের লাগামহীন দাম কমাতে এবং নিজেদের সংকট সামলাতে জরুরি মজুদ থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়তে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তা না হলে দেশটিতে তৈরি ডিজেল ইউরোপে রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে এ ঘোষণার ঠিক একদিন পরেই ইউরোপের দেশগুলো বিপুল পরিমাণ মজুদ ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (২ অক্টোবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদ রয়েছে। সেসব মজুদ থেকে ‘বিপুল পরিমাণ’ ডিজেল দ্রুত বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, ইউরোপ বিপুল পরিমাণ মজুদ ডিজেল তেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে।

এ প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে। তবে কোন কোন দেশ কত পরিমাণ ডিজেল ছাড়বে বা এই উদ্যোগের বিস্তারিত পরিকল্পনা কী—সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

এদিকে শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলো ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো আরো ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে পারে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর এই আলোচনায় ২০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে ডিজেলের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দ্রুত জ্বালানি মজুদ ছাড়ার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

এদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ শুক্রবার বিকেলে জি৭ নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জি৭ দেশগুলো ফ্রান্সের প্রস্তাবিত পরিমাণে জ্বালানি ছাড়তে সম্মত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মজুদ ছাড়ার আলোচনা প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল ফিউচারের দাম আরো কমেছে। দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৪৯১ ডলারে নেমে আসে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারও প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ ডলারের বেশি কমেছে।