Home আঞ্চলিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪১ চিকিৎসকের পদের মধ্যে অর্ধেকই শূন্য

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪১ চিকিৎসকের পদের মধ্যে অর্ধেকই শূন্য

2


দাকোপ প্রতিনিধি।।


খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪১ পদের মধ্যে ২২টিই শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ নেই। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে সামলাতে হচ্ছে পুরো প্যাথলজি বিভাগ।

এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য সহায়ক জনবলের সংকটও রয়েছে এ হাসপাতালে। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে সাত একর জায়গায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এরপর ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ৫০ শয্যার উপযোগী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২১৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২৫ জন। শূন্য পদ রয়েছে ৯১টি। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৪১টি পদের মধ্যে ২২টি শূন্য। ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে আছেন ৪ জন। মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জনের ৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৪ জন। মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ আছে ৮০টি, কর্মরত আছেন ৫৭ জন। নার্সের ৩৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছে ৩২ জন।


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্রসূতি) ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) পদে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া ৩টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও ৮টি সহকারী সার্জনের পদও শূন্য আছে। রেডিওগ্রাফার, ফিজিওথেরাপিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফারের পদও খালি আছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১১৭ রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০-৩৫০ জন এবং জরুরি বিভাগে ৭০-৮০ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। ভর্তি থাকেন ৪৫-৫০ জন।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ৫৬ রোগী শয্যায় চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। শয্যা না পেয়ে বাকি রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেতেছেন। সেখানেই তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক কুন্তল মণ্ডল জানান, প্রতিদিনই অন্তঃসত্ত্বা নারীরা আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হয়। তারপরও যেসব চিকিৎসক আছেন তারা চেষ্টা করেন পর্যাপ্ত সেবা দেওয়ার জন্য।

তিনি আরও জানান, মাঝেমধ্যে এত চাপ বাড়ে যে, এই সংখ্যক জনবল দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম পোহাতে হয়। দাকোপের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক রোগীরা এখানে আসেন।

হাসপাতালে এক্সরে মেশিন থাকলেও রেডিওগ্রাফার বা টেকনিশিয়ান না থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও নেই সনোলজিস্ট। ফলে এসব পরীক্ষা করাতে রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এখানে প্রতিদিন প্রচুর পরীক্ষা হয়। জনবল না থাকায় আমাকে একাই রক্ত সংগ্রহ, নমুনা প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার কাজ করতে হয়। এতে কাজের ওপর চাপ পড়ে এবং কাজে বিঘ্ন ঘটে। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে সেবা দেওয়া সহজ হতো।

নানা সংকটের মধ্যেও সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদীপ বালা বলেন, জনবল চেয়ে আমরা একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকসহ নির্ধারিত জনবল পেলে অবহেলিত এ অঞ্চলের চিকিৎসাসেবা অনেকটা এগিয়ে যাবে।