Home আলোচিত সংবাদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

3


ঢাকা অফিস।।

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ডোপ টেস্টে কারও ফল ‘পজিটিভ’ হলে কিংবা কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রেখে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

রুলের জবাব দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিটের পক্ষের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি গণমাধ্যমকে জানান, গত ১৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় তাদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

রিট আবেদনে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগ পর্যন্ত আসন্ন সব নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল।

আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বলেন, ‘আদালত আপাতত শুধু রুল জারি করেছেন। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের স্বীকৃত মেডিকেল প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষাগারে ডোপ টেস্ট করিয়ে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেওয়ার বিধান নির্বাচনি আইন ও বিধিমালায় যুক্ত করার জন্যই রিটটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনে যেসব প্রার্থী অংশ নিতে চান, তাদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হোক। এ বিষয়ে আইনে একটি ধারা থাকা উচিত।’

জনপ্রতিনিধিদের সুস্থ মানসিক অবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরাত জাহান অনি বলেন, ‘একজন করদাতা হিসেবে তিনি চান, তাকে প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান বা সদস্য সুস্থ মানসিকতার মানুষ হোন। আমার সমস্যা দেখছেন একজন এমপি, একজন চেয়ারম্যান বা একজন মেম্বার। তিনি নিজেই যদি সমস্যাগ্রস্ত একজন মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে আমার সমস্যার সমাধান করবেন? সুস্থ মানসিকতার মানুষ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করুক।’

দেশে মাদক ‘মহামারি’ আকার ধারণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একজন করদাতা হিসেবে নিজের প্রতিনিধিত্বকারী এমপি, চেয়ারম্যান বা সদস্য সুস্থ মানসিকতার মানুষ হবেন—এটাই তার প্রত্যাশা বলে জানান তিনি।

আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো জনপ্রতিনিধি মাদক গ্রহণে জড়িত হলে বিদ্যমান আইনেই তার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।’

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য। সরকারি চাকরিজীবী ও চালকদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলেও আইনপ্রণেতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এ ব্যবস্থার বাইরে রাখা সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

আবেদনে আরও বলা হয়, দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত জনপ্রতিনিধিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা প্রয়োজন। মাদকাসক্ত কোনো ব্যক্তি জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিকতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেন না বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।