স্টাফ রিপোর্টার।।
রাজধানী ঢাকায় মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে অন্তত চারটি পৃথক স্থানে প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন, বাড়ি ও জমি দখলচেষ্টা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর কিংবা বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র হামলা—ধারাবাহিক এসব সহিংসতায় নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা:
সর্বশেষ শনিবার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানার নিউগ্রিন হাউজিং এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। একদল হামলাকারী প্রবেশ করে স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, এতে প্রতিষ্ঠানটির বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে।
আদাবরে আটতলা বাড়িতে রামদা-চাপাতি হাতে তাণ্ডব:
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি আটতলা বাড়িতে ১৫-২০ জনের একদল সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি ও পিস্তল ছিল। তারা মূল ফটকের গেটে কোপায়, জানালার কাচ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে টাকা দাবি করে এবং বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিকের স্বজনেরা। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টেও খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাড়িটি দখলের অভিযোগ ওঠে, যা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে। বারবার এমন হামলার ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারটির সদস্যরা।
মোহাম্মদপুরে ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টা:
শনিবার সকালেই মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের ‘রোজ ভিলা’ সংলগ্ন এলাকায় শতাধিক লোকের একদল ক্যাডার বাহিনী ৩৫ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রকাশ্য দিবালোকে বিশাল বাহিনী নিয়ে এমন দখলাভিযানে পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি হয়।
মিরপুরে বুলডোজার দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া:
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্র’ নামের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে একদল দুর্বৃত্ত হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। পরবর্তীতে ভারী যন্ত্রপাতি (বুলডোজার/এক্সেভেটর) ব্যবহার করে পুরো ভবন ও স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং দুটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া লুটের মালামাল উদ্ধার করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:
রাজধানীর চার পয়েন্টে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র প্রদর্শনী ও দখলদারিত্বের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি প্রকট হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।









































