ডুমুরিয়া প্রতিনিধি।।
খুলনার ডুমুরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪৭ জনকে আসামি করে করা একটি মামলা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। মামলায় চিকিৎসক, শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আসামি করা হয়েছে।
তাঁদের কয়েকজন দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. দ্বীন মোহাম্মদ খোকা, ডুমুরিয়া ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল বিষ্ণু প্রসাদ মল্লিক, আঠারোমাইল সৈয়দ ঈসা অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক জি এম ফারুক হোসেন, পল্লীশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সরদার, চুকনগর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ বি এম শফিকুল ইসলাম, বানিয়াখালী মাওলানা ভাসানী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক কে এম হযরত আলী এবং ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম।
এ ছাড়া ৮০ বছর বয়সী সাবেক ইউপি সদস্য সরদার মাহামুদ আলী, সত্তরোর্ধ্ব অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর রশীদ রনো, শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার, শেখ হেফজুর রহমান ও আবু বক্কার খানসহ আরও অনেকে মামলার আসামি হয়েছেন।
মামলাটি ২১ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়া থানায় করেন রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রব আকুঞ্জি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কোমরাইল গ্রামে একটি গোপন বৈঠক করে সরকার উৎখাত, নাশকতা ও সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
তবে মামলার কয়েকজন আসামি দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসামি ডা. দ্বীন মোহাম্মদ খোকার দাবি, মামলার সময় তিনি বাগেরহাটে ইউনিসেফের একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক চার দিনের কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে ওই সময়ে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না বলে তিনি দাবি করেন।
ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলার বাদী আব্দুর রব আকুঞ্জি বলেন, ‘আমি যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি, তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের নাম ছিল না। বাকিদের আসামি করেছে থানা পুলিশ।’
তবে এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, মামলার আসামিদের সব নামই বাদী দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাদীর মোবাইল চেক করলেই সব জানতে পারবেন। পরে মামলার তিনটি স্থানে তিনি স্বাক্ষর করেছেন।’
ওসি আরও বলেন, কোনো নিরীহ মানুষ যাতে মামলায় হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে বাদীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।









































