যশোর অফিস।।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যশোরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘কৌশল থেকে বাস্তবায়ন, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ও জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন-পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ প্রকল্পের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। এরপর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। বিদ্যুৎ বিভাগের নেট মিটারিং ব্যবস্থাতেও গ্রাহকের নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি খাতে আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের বিপুল সংখ্যক সরকারি-বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের ছাদ রয়েছে। এসব ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের সুযোগ কাজে লাগানো গেলে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে একদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাপ কমবে, অন্যদিকে বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা নিজেদের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্যও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।’
প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’
কর্মশালায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-৩০ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা ও নেট মিটারিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ এরইমধ্যে জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির পাশাপাশি ২০২৬-৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও সমন্বয় শাখার কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরাফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগের সমন্বয়ক স্টোয়ানকা স্টিচ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা শাখার অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ।
যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








































