Home খেলাধুলা মেসি হতে চাননি, নেইমারের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান ইয়ামাল

মেসি হতে চাননি, নেইমারের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান ইয়ামাল

0

স্পোর্টস ডেস্ক ।।

লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা, ছোটবেলায় মেসির সঙ্গে তোলা ভাইরাল ছবি কিংবা বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কিংবদন্তির সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এসবের সঙ্গে পরিচিত লামিনে ইয়ামাল।

তবে স্প্যানিশ এই তরুণ তারকা জানালেন, কখনোই মেসি হতে চাননি তিনি। বরং নিজের খেলার ধরনে নেইমারের সঙ্গে মিল খুঁজে পান তিনি।

‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল, মেসির সঙ্গে তার কথোপকথন এবং নিজের খেলার ধরন নিয়ে কথা বলেছেন ইয়ামাল।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলেই আসে জয়। শেষ বাঁশি বাজার পরই মেসিকে জড়িয়ে ধরেন ইয়ামাল। এরপর দুজনের মধ্যে কয়েক মুহূর্তের কথোপকথন হয়।

মেসির সঙ্গে সেই কথোপকথনে কী বলেছিলেন, তা জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবলের জন্য আপনি যা দিয়েছেন, সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। ছবির জন্য ভালো দেখানোর উদ্দেশ্যে আমি এসব করি না। কথাটা ভেতর থেকেই এসেছিল।’

বার্সেলোনায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে উঠে আসার পর থেকেই মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা চলে আসছে। তবে এই তুলনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে ছোটবেলায় মেসির গোসল করানোর সেই ভাইরাল ছবিটি তার বাবা বহু বছর প্রকাশ্যে আনেননি ইয়ামালের অনুরোধেই।

‘কারণ আমি তাকে বলেছিলাম যেন না দেয়। একবার সে ফেসবুকে ছবিটি দিয়েছিল এবং আমি তাকে মুছে দিতে বলেছিলাম। তুলনা করাটা খুব সহজ ছিল, আর মানুষ শুধু সেটি নিয়েই কথা বলত,’ বলেন ইয়ামাল।

‘আমি ইয়ামাল হতে চেয়েছিলাম, মেসি হতে চাইনি। আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম, আমি কতদূর যেতে পারি। তাই বাবাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। আমি যখন ইয়ামাল হয়ে উঠব, তখন যা ইচ্ছা করো।’

মেসির সঙ্গে তুলনা এড়িয়ে চললেও নিজের খেলার ধরনে অন্য এক কিংবদন্তির প্রভাব স্বীকার করেছেন ইয়ামাল। তিনি নেইমারের খেলা থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান।

‘নেইমারের একটি পরিচিত মুভ আছে, যেখানে সে থামে, ভান করে একদিকে যায়, তারপর অন্যদিকে চলে যায়। আমি তার অনেক ভিডিও দেখেছি। আমি প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে চেষ্টা করি, যাতে তারা আমাকে যান্ত্রিকভাবে আটকাতে না পারে এবং আমি কোথায় যাব, তা যেন তারা বুঝতে না পারে।’

মাঠে প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে নিজের কাছে অনেকটা রোবটের মতো মনে করেন ইয়ামাল। তার মতে, ফুটবল অনেকটাই পরিকল্পনানির্ভর হয়ে উঠলেও কিছু খেলোয়াড়ের মধ্যে এমন সৃজনশীলতা থাকে, যা কোনো যান্ত্রিক পরিকল্পনায় আটকানো কঠিন।

‘একজন ফুলব্যাকের কোচ তাকে বলবে, “ঠিক আছে, ইয়ামাল, সে যা করে তা হলো…” আমি তাকে রোবট হিসেবে ভাবি, যে আমাকে থামানোর চেষ্টা করছে। রোবট প্রায় নিখুঁত হতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের এমন কিছু থাকবে, যা রোবটের নেই। ফুটবল এখন অনেকটাই যান্ত্রিক হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মতো, পেদ্রির মতো এবং আরও অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে সেই বিশেষ স্ফুলিঙ্গ আছে।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের গোলেও নিজের এই চিন্তাধারা কাজে লাগিয়েছিলেন বলে জানান ইয়ামাল। ম্যাচের ৬০, ৭০ ও ৮০ মিনিটের দিকে কয়েকবার প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। প্রতিবারই তার দিকে এগিয়ে এসেছিলেন আলেক্সিস মাক আলিস্তার।

‘আমার যদি সত্যিই ফুলব্যাককে আক্রমণ করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে আমি দ্রুত তার দিকে যেতাম। কিন্তু এবার আমি ধীরে বল নিয়ে এগিয়েছিলাম, যাতে মাক আলিস্তার আমার কাছে আসার সময় পায়, পেদ্রো পরো আমার পেছন দিয়ে উঠে আসতে পারে এবং আমি বলটা পেছনে খেলতে পারি।’

শেষ পর্যন্ত ইয়ামালের পরিকল্পনাই কাজে আসে। তার তৈরি করা জায়গা দিয়ে পেদ্রো পরো উঠে গিয়ে ক্রস করেন। নিকো উইলিয়ামস হেডে বল নামিয়ে দেন ফেরান তোরেসের জন্য। সেই বলেই গোল করে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতান ফেরান।

‘আমরা জানতাম, ফেরানের গোলটা দরকার ছিল। আসলে বিশ্বকাপ ফাইনালে সবারই একটি গোল দরকার। উনাই সিমন গোল করলেও দারুণ হতো। যখন বল জালে ঢোকে, মুহূর্তটা অসাধারণ। তখন মনে হয়, আমরা চ্যাম্পিয়ন। সেই আবেগ ব্যাখ্যা করা যায় না।’

গোল হওয়ার পরও ইয়ামালের মাথায় সমতা ফেরার কোনো ভয় কাজ করেনি। বরং মুহূর্তটি উপভোগ করছিলেন তিনি।

‘আমি শুধু খেলে যেতে চেয়েছিলাম। একবারও ভাবিনি, তারা হয়তো সমতা ফেরাবে। সামান্য ধাক্কা হয়েছিল, একটি সুযোগ পেয়েছিল তারা, যেটি পাউ কুবাসি ক্লিয়ার করে দেয়। কিন্তু আমি তখন শুধু উপভোগ করছিলাম।’