কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার কয়রা উপজেলার ১১০ নম্বর চৌকুনী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের টিন ও অব্যবহৃত বেঞ্চ গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের জমিদাতা মো. নজরুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের পর তড়িঘড়ি করে বিক্রি হওয়া টিন ফেরত এনে ভবনে পুনঃস্থাপন করা হলেও বিক্রি করা বেঞ্চগুলোর এখনো কোনো হদিস মেলেনি।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান এবং নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবদুল্লাহ মোল্লাকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে নতুন সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত পাঠদান চলছে। ফলে পুরোনো ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে ছিল। সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের না জানিয়ে, কোনো সাধারণ সভা বা সরকারি রেজুলেশন ব্যতিরেকেই সাবুর আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে পুরোনো ভবনের ইট ও ঢেউটিন বিক্রি করে দেওয়া হয়। টাকা লেনদেনের পর সাবুর আলী ছাদের টিন খুলে নিয়ে যান।
এছাড়া কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের পুরোনো বেঞ্চগুলো গোপনে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
স্কুলের সরকারি সম্পদ গোপনে বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকা জুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তড়িঘড়ি করে খুলে নেওয়া টিন ফেরত এনে ভবনে পুনরায় লাগানো হয়। তবে লাপাত্তা বেঞ্চগুলো নিয়ে এখনো অসন্তোষ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, “বেঞ্চগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় নষ্ট হয়েছে। ঘর যেভাবে ছিল সেভাবেই রয়েছে, কোনো টিন বা ঘর বিক্রি করা হয়নি।”
অন্যদিকে, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবদুল্লাহ মোল্লা ভিন্ন সুর তুলে বলেন, “নতুন ভবনে ক্লাস হওয়ায় সদস্যদের সাথে আলোচনা করে পুরোনো ঘর বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ঘর বিক্রি করা হয়নি।”
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী জানান, এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











































