স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে রেকর্ড ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার পেরিয়ে গেছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৃত্যুর তথ্য ও ডেঙ্গু পরিস্থিতির আপডেট নিশ্চিত করেছেন।
২৪ ঘণ্টার চিত্র ও হাসপাতালে রোগী ভর্তি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে খুলনা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জনের মৃত্যু হয়।
একই সময়ে নতুন ভর্তি হওয়া ২৭৬ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮৮ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। জেলাভিত্তিক আক্রান্তের হিসাবে:
খুলনা জেলা: ১৫৪ জন
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৭২ জন, সাতক্ষীরা: ১৭ জন,নড়াইল: ১২ জন, বাগেরহাট: ১১ জন, কুষ্টিয়া: ৪ জন, মেহেরপুর: ৪ জন, চুয়াডাঙ্গা: ২ জন
বিভাগীয় সার্বিক চিত্র:
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর জানায়, বর্তমানে খুলনা বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ১ হাজার ১৪১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩০২ জনে। তাঁদের মধ্যে ১০ হাজার ৮১৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
কেসিসির ফ্রি ক্যাম্প ও বিশেষ উদ্যোগ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি জানান, নগরীতে মশার লার্ভা ধ্বংস ও উড়ান্ত মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা জোরদারে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া, কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শয্যা (বেড) সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসির উদ্যোগের পাশাপাশি নগরীর সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যুক্ত হলে এই কার্যক্রম আরও বেশি ফলপ্রসূ হবে।











































