খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে পেছন থেকে অপর একটি বাসের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ১৫ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের বাখরেরকান্দি (পাঁচ্চর) এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে গোপালগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকী পরিবহনের একটি বাস। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাখরেরকান্দি এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসটির চাকা নষ্ট হয়ে গেলে চালক সেটি এক্সপ্রেসওয়ের পাশে পার্কিং করে রাখেন (অন্য একটি সূত্রের দাবি, বাসটি সেখানে যাত্রী নামাচ্ছিল)।
এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের অপর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পালকী পরিবহনের বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাস দুটির মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
আহতদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর সরদার জানান, পালকী পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে পার্কিং করা অবস্থায় ছিল। দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাসটি এসে পেছনের দিকে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম ইবনে মিজান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











































