Home বিনোদন সাবিলা নূরের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

সাবিলা নূরের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

0

বিনোদন ডেস্ক।।

অভিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্দায় ভিন্নভাবে নিজেকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে উঠেছেন তিনি। নাটক, ওটিটি কিংবা রুপালি পর্দা–অভিনয়জীবনের প্রতিটি ধাপে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বাণিজ্যিক সিনেমা ‘তাণ্ডব’ দিয়ে বড়পর্দায় যাত্রা শুরুর পর মুক্তি পাওয়া প্রতিটি কাজে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এখন তিনি আরও পরিণত হয়ে নির্মাতাদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছেন। বলছি, অভিনেত্রী সাবিলা নূরের কথা।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাবিলার ভাবনা ছিল ভিন্ন। নিজেকে একই ধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ না রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন দিনের পর দিন। এমন চরিত্র খুঁজেছেন, যেখানে দর্শক তাঁকে আগে দেখেননি। সাবিলার ভাষায়, ‘চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুরু থেকে আমার চিন্তা ছিল, আমি ভিন্ন কিছু করতে চাই। এমনভাবে দর্শকের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই, যেভাবে তারা আমাকে আগে দেখেননি। যে চরিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে আমি নতুন কোনো এক্সপেরিমেন্ট করতে পারব, সেভাবে চিন্তা করেছি।’

‘তাণ্ডব’-এর নিশাত, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রা কিংবা ‘রকস্টার’-এর মীরা–প্রতিটি চরিত্রে ছিল আলাদা চ্যালেঞ্জ। যেমন ‘তাণ্ডব’ বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা, সেখানে ‘লিচুর বাগানে’ ধরনের গান ছিল, অ্যাকশন ছিল, থ্রিলারও ছিল। আবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ পুরোপুরি ভিন্ন টাইপ। তাণ্ডবের সঙ্গে এর কোনো দিক থেকে মেলানো যাবে না। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রার চেয়ে ‘রকস্টার’-এর মীরা একেবারে আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। সিনেমাগুলোর গল্পও অসাধারণ! টেকনিক্যাল বিষয়টিও উন্নত। তিনটি চলচ্চিত্রে কাজ করে তিন ধরনের চরিত্রে নিজেকে হাজির করতে পারাকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের বলে মনে করেন সাবিলা। দর্শকের ভালোবাসা ও প্রশংসা তাঁকে আরও নতুন কিছু করার সাহস দিচ্ছে।

প্রথমে ‘তাণ্ডব’ সাফল্যের পর আসে দ্বিতীয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর তুমুল সাফল্য। সিনেমার সেই সাদামাটা চিত্রা যেন মন জয় করে নিলেন দর্শকের। এরপর মীরা হয়ে ‘রকস্টার’-এ কাজ করেছেন সাবিলা। যে নায়কের সঙ্গে সিনেমায় অভিষেক, সেই শাকিব খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার জুটি বেঁধেছেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির পরও দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছেন অভিনেত্রী। দর্শকের ভালোবাসা একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—সাবিলার কথাতেও সেটি উঠে আসে।

সাম্প্রতিক কাজগুলোতে পাওয়া ভালোবাসা তাঁকে নিজের কাজ নিয়ে আরও সচেতন করেছে। দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। এ যাত্রায় পরিবারের সমর্থনকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখেন সাবিলা। ব্যস্ততা, চাপ কিংবা নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পরিবারের মানুষদের পাশে পাওয়াটা তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি জোগায়। ছোটপর্দায় দীর্ঘদিন ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন সাবিলা।

তবে আপাতত সেখানে ব্যস্ততা বাড়ানোর ইচ্ছা নেই তাঁর। ছোটপর্দার কাজ থেকে কিছুটা দূরে থাকতে চান। এরই মধ্যে নতুন কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। বিভিন্ন গল্প শুনেছেন, এর মধ্যে একটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে খুব শিগগির নতুন ছবির ঘোষণা আসতে পারে। সামনে সাবিলার জন্য আরও কঠিন পরীক্ষা ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’। সিনেমাটির চরিত্রের জন্য তাঁর প্রস্তুতিও বেশ কঠিন। ঠিক কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে, সেটি এখনই প্রকাশ করতে চান না অভিনেত্রী। সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ কিংবা ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক বুঝতে পারবেন চরিত্রটির জন্য তাঁকে কতটা প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

সাবিলা বলেন, ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ আমার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জিং একটি প্রজেক্ট। দুর্দান্ত একটি টিমের সঙ্গে যে এই চ্যালেঞ্জটা অনুধাবন করতে পারছি, এটি আমার জন্য সৌভাগ্যের। এখন এই মুহূর্তে আমি ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ নিয়েই আছি। প্রস্তুতি কীভাবে আরও ভালোভাবে নেওয়া যায়, সেটা নিয়ে ভাবছি।’ এখন তাঁর ভাবনায় সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ করার আকাঙ্ক্ষা। সাবিলা বলেন, ‘আমি এখন গল্প ও চরিত্র–সব দিক থেকে অনুধাবন করতে চাই। এমন চরিত্র করতে চাই, যেটি একদমই সাবিলার মতো না। ‘তাণ্ডব’-এর নিশাতের মতো না, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রার মতো না, ‘রকস্টার’-এর মীরার মতোও না। এখানে একদম ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র ও গল্প আবিষ্কার করার একটা তীব্র আকর্ষণ আমার মধ্যে কাজ করে।’

সাবিলার কথা শুনে বোঝা গেলো এই ভাবনার পরবর্তী ধাপ হতে যাচ্ছে ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’। তানিম নূরের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটিতে সাবিলার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন শরিফুল রাজ। স্বাধীন ও সুষ্ময় পরিচালিত সিনেমাটি তাদের দুজনের পরিচালনায় অভিষেক। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সঙ্গেও এই দুই নির্মাতার আগের কাজের সূত্র রয়েছে। স্বাধীন ছিলেন সেই ছবির চিত্রনাট্যকার, আর সুষ্ময় ছিলেন প্রধান সহকারী পরিচালক।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পর তাদের নতুন যাত্রার অংশ হতে পেরে আনন্দিত সাবিলা। তবে নতুন ছবির গল্প বা চরিত্র নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলতে চান না তিনি। শুধু জানিয়েছেন, মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর উপন্যাস ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ অবলম্বনে তৈরি হলেও স্বাধীন ও সুষ্ময় চিত্রনাট্যে নিজেদের আলাদা স্বাদ যোগ করেছেন।

অভিনয়ে আরও পরিণত হওয়ার প্রসঙ্গেও সাবিলার ভাবনা সরল। আলাদা করে নিজেকে পরিণত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার চেয়ে ভালো চরিত্র ও ভালো গল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে অভিনয়ে যুক্ত হওয়া সাবিলার নাটকের জার্নিটাও ছিল দীর্ঘ। সেই সময়ে সহশিল্পী, পরিচালক ও ক্রু সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতাকে নিজের আজকের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি মনে করেন তিনি। ‘ছোটপর্দার সেই দীর্ঘ পথচলার শক্তি থেকে আজ আমি সিনেমা করার কথা ভাবতে পারছি। এখন আমার একটাই ফোকাস–ভালো ভালো কাজ করা এবং দর্শককে হতাশ না করা,’ বলেন সাবিলা।

তাই সামনে চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও দর্শকের রুচিকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। দর্শক তাঁকে কোন ধরনের গল্প ও চরিত্রে দেখতে চান, সেটিও ভাবনায় রাখবেন। তবে সেই ভাবনার সঙ্গে নিজের শিল্পীসত্তার অনুসন্ধানও চলবে সমানতালে। কারণ সাবিলার কাছে অভিনয়ের এই যাত্রা এখন কেবল সিনেমায় কাজ করার নয়; প্রতিটি নতুন চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করারও।

ঢাকায় বেড়ে ওঠা সাবিলা ছোটবেলা থেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভালোবাসতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, অভিনয় ও উপস্থাপনায় ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। ২০১৪ সালে একটি মোবাইল অপারেটরের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়ায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর শোবিজে শুরু হয় তাঁর পথচলা।

‘ইউ টার্ন’, ‘ভালোবাসা ১০১’, ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’, ‘বেডরুম ৩০২’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনাতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বর্তমানের চিন্তা, অভিনয় ও নিজেকে আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সাবিলা যেন আরও পরিণত।