Home আঞ্চলিক ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচাতে মেয়ের আকুতি

ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচাতে মেয়ের আকুতি

6

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

‘বাবা ছাড়া আমাদের কেউ নেই। আমার বাবা বাঁচতে চান। কিন্তু বাবার ফুসফুস নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যেতে হবে অনেক টাকা প্রয়োজন। আমরা গরিব মানুষ, নেই জমিজমা, এত টাকা কোথায় পাব? আপনারা আমার বাবাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।’ কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন শুভংকার ব্যানার্জীর বড় মেয়ে দিয়া ব্যানার্জী।

দিয়া ব্যানার্জীর বয়স সাত বছর। বাবার অসুস্থতায় অসহায় হয়ে পড়েছে ছোট্ট মেয়েটি।

অসুস্থ শুভংকার ব্যানার্জী সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা। তিন মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। তিনি পেশায় পুরোহিত। সারাবছর হিন্দুধর্মাবলীদের ধর্মীয় পূজা করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। তার কোনো জমি জমা নেই । আছে শুধু বাস্তভিটাটুকু। অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে পরিবারের মানুষগুলো।


দিয়া ব্যানার্জী বলেন, ‘বাবার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট, শরীর দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। ডাক্তাররা বলেছে তার ফুসফুস নাকি নষ্ট হয়ে গেছে। এই মূহুর্তে অপারেশন না করালে তাকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু আমরা এতো টাকা কোথায় পাবো? অপারেশন করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আপনারা আমাদের প্রতি একটু দয়া করেন। আমার বাবাকে বাচান আপনারা। আমাদের পাশে এসে দাড়ান।’

একসময় পরিবারের ভরসা ছিলেন শুভংকার ব্যানার্জী। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। অথচ আজ সেই বাবাই বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। প্রতিটি নিশ্বাস যেন তার জন্য হয়ে উঠেছে অসহনীয় যন্ত্রণা।

ছোট মেয়ে হিয়া ব্যানার্জী বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকে বাবা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আজ বাবা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। আমরা কী করবো কোথায় যাবো কিছুই জানি না।’

শুভংকার ব্যানার্জীর দাদা শিবপদ ব্যানার্জী বলেন, ‘এখান থেকে এক বছর আগে ফুসফুসে নষ্ট হয়ে গেছে বলে বাংলাদেশের ডাক্তাররা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলেছিলেন। গত বছর ভারতের কল্যাণীতে গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য । সেখান থেকে বলেছে তোমার ফুসফুস নষ্ট হয়ে গেছে। তোমার কোন ঔষধ লেখা যাবে না একমাত্র উপায় অপারেশন করতে হবে। ভাইয়ের চিকিৎসায় এরই মধ্যে সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছেন তারা। ধারদেনা ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়েও চিকিৎসার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার খরচ যোগ হচ্ছে। কিন্তু আয় করার মতো পরিস্থিতি নেই পরিবারের। সামনে দূর্গা পূজা। ভাই অসুস্থ হওয়ায় পূজা করতে ও যেতে পারবে না। খুব খারাপ সময়ে পার করছি।’

অসুস্থ স্বামীর পাশে বসে সারারাত দিন কাটছে অসিমা ব্যানার্জীর। তার মুখে একটাই আকুতি তার স্বামীকে বাঁচতে সাহায্য করুন। চোখের সামনে প্রিয় মানুষটিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখা কতটা অসহায়ত্বের, তা যেন অসিমার দুচোখে ফুটে উঠছে।

স্ত্রী অসিমা ব্যানার্জী বলেন, ‘ডাক্তার বলেছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তার অবস্থার উন্নতি হতে পারে। কিন্তু ভারতে মতো টাকা আমাদের নেই। তবুও এমন আশাতেই দিন কাটছে পরিবারের।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বামীকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখে আমি সহ্য করতে পারছি না। টাকা না থাকায় যদি স্বামীকে হারাতে হয়, তাহলে আমি নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারব না।’

এখন সামর্থ্যবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছে পরিবারটি। একটি পরিবারের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চাওয়া অর্থ নয়, একজন বাবা ও স্বামীর জীবন ভিক্ষা।