স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালার (পরিচিতি নং-১৬২৩৯) বিরুদ্ধে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও নানা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ২৫ থেকে ২৮ বছর ধরে কর্মরত সাতজন প্রবীণ মাস্টাররোল শ্রমিককে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তার এই দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি নতুন করে জনসম্মুখে এসেছে।
ওয়াসার নথি ও অনুসন্ধানী সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় ও প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অনিয়ম ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ঘোষিত জাতীয় সাধারণ ছুটির নির্দেশ অমান্য করে তিনি শোকের দিনে অফিসে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেদিন কার্যালয়ে ভূরিভোজের আয়োজন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন, যা সংস্থার কর্মচারীদের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এছাড়া তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতেন। নিজস্ব জেলা গোপালগঞ্জ এবং স্বামী ডাক্তার শিশির রঞ্জন অধিকারীর কর্মস্থল পিরোজপুরে যাতায়াতের কারণে খুলনা ওয়াসার গাড়ি ব্যবহার করায় মাসিক জ্বালানি বিল ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে একলাফে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়।
শুধু গাড়ির বিল বা শোক পালনে অবহেলাই নয়, বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার বানিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণও উঠে এসেছে। খুলনা ওয়াসার বোতলজাত পানির প্ল্যান্ট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে কাজের নাম করে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নামে ভুয়া বিল বানিয়ে টাকা তোলা হতো। পাশাপাশি কার্যালয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সাবেক এমডি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সহায়তায় টেন্ডার কমিটির প্রধান হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমডি কার্যালয় সাজাতে ৪০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য দপ্তরের নামে ভুয়া ভাউচারে আরও ৩০ লাখ টাকা লোপাট করা হয়। অন্যদিকে কোটি টাকার পানির মিটার গায়েব হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধানের দায়িত্বে থাকলেও কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বড় অঙ্কের লেনদেনের বিনিময়ে তিনি অভিযুক্তদের পদোন্নতির সুপারিশ করেছিলেন।
রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ অমান্য করার নজিরও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত ১০ জুলাই (২০২৬) সাধারণ ছুটির দিনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে তিনি নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা করেন। ‘দৈনিক খুলনা অঞ্চল’ পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অবৈধ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতি পদের বিপরীতে ওয়াসার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪৩ হাজার ৭১১ টাকা। ঝুমুর বালার এই দুর্নীতি অবশ্য নতুন নয়; এর আগে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে মাত্র দুটি টাইলস ও সিসি ক্যামেরা মেরামতের নামে ২০ লাখ টাকার ভুয়া বিল তোলার অপরাধে দুদকের অনুসন্ধানে সত্যতা মেলায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকার পরও সম্প্রতি তাকে কেবল বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলিতেই তার বিরুদ্ধে শাস্তি শেষ কি না-তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। তারা অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করে কঠোর আইনানুগ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।











































