Home খেলাধুলা সিপিএল অভিষেকে আলো ছড়ালেন মিরাজ

সিপিএল অভিষেকে আলো ছড়ালেন মিরাজ

0


স্পোর্টস ডেস্ক

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেকটা রাঙালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ও ৪৭ বছর বয়সী ইমরান তাহিরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেন্ট লুসিয়া কিংসের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। এর ফলে লো স্কোরিং ম্যাচে ৪ উইকেটের জয় দিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফিরেছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।

১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় ১৭ বল থেকে ২২ রান প্রয়োজন ছিল গায়ানার। তখন ৯৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে কুইন্টন স্যাম্পসন মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও একটি চার। এ নিয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে হারের মুখ দেখল সেন্ট লুসিয়া কিংস।

এই জয়ে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের পয়েন্ট হলো ১৪। ফলে প্রতিযোগিতার ২০২৬ মৌসুমের লিগ পর্বে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যান্টিগা ও বারবুডা ফ্যালকনসের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে গায়ানা। প্লে-অফের আগে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে তাদের। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স ও বারবাডোস ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে ওই দুই ম্যাচে জিতে পয়েন্ট আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তাদের।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে সেন্ট লুসিয়া কিংস শুরুটা ভালোই করেছিল। প্রথম ছয় ওভারে ৫১ রান তোলে তারা, হারায় মাত্র একটি উইকেট। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন গায়ানার বোলাররা। প্রতিযোগিতায় অভিষেক হওয়া মিরাজ নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট নেন। এরপর ইমরান তাহির ফেরান দারুণ ফর্মে থাকা কামিল পুরানকে। ৩৫ বলে ৪৩ রান করা পুরানকে পায়ের সামনে বল দিয়ে আউট করেন তিনি।

পরের বলেই আবার আঘাত হানেন তাহির। দশম ওভারে নিজের অধিনায়কত্বের প্রতিপক্ষ রস্টন চেজকে মাত্র ১ রানে পায়ের সামনে বল দিয়ে ফেরান তিনি। ৬৪ রানে ৪ উইকেট থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই ৭২ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয় কিংসের স্কোর। একাদশ ওভারে মেহেদী হাসান ফিরিয়ে দেন কেমল স্যাভরি ও চরিথ আসালঙ্কাকে। এরপর লেজের ব্যাটসম্যানদেরও একে একে ফিরিয়ে দেন তাহির।

তাহিরের লক্ষ্য ছিল বারবার ব্যাটসম্যানের স্টাম্প। তিন বলের ব্যবধানে ম্যাককেনি ক্লার্ক ও ম্যাথু ফোর্ডকে শূন্য রানে বোল্ড করেন তিনি। এরপর ভুল ঘূর্ণির বলে বিভ্রান্ত করে জশুয়া বিশপকে পায়ের সামনে বল দিয়ে আউট করেন। এর মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পঞ্চমবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তাহির। প্রতিযোগিতাটিতে এটি তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট। মেহেদীকে সঙ্গে নিয়ে দুজন মিলে ৩০ রানে ৮ উইকেট নেন এবং মোট ২৮টি বল ডট দেন।

১২০ রান তাড়া করতে নেমে গায়ানার উদ্বোধনী জুটি শুরুতে বেশ ধীরগতিতে এগোয়। প্রথম তিন ওভারে আসে মাত্র ১২ রান। এরপর রস্টন চেজ ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। প্রথম ছয় ওভারে গায়ানার সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ২৩ রান, হারায় একটি উইকেট।

১১ ওভার শেষে গায়ানা ৫০ রানও করতে পারেনি। অবশেষে চেজের বলে গ্লেন ফিলিপস স্লগ সুইপে ছক্কা মেরে ৩৬ বলের বাউন্ডারির খরা কাটান। পরের ওভারে মহীশ তীক্ষণাকেও আক্রমণ করেন তিনি। তবে একই বোলারের বলেই বোল্ড হয়ে ৪০ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন ফিলিপস।

এরপর আরও চাপে পড়ে গায়ানা। পাঁচ বলের মধ্যে আসালঙ্কার বলে শাই হোপ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এবং চেজের বলে মেহেদী হাসান ক্যাচ তুলে দেন। ফলে ১৫তম ওভারে ৬৯ রানে ৪ উইকেটে পরিণত হয় গায়ানার স্কোর।

তখন ৩০ বলে প্রয়োজন ছিল ৪৮ রান। ১৬তম ওভারে আসালঙ্কার বলে একটি করে ছক্কা মারেন হেটমায়ার ও স্যাম্পসন। যদিও ১৮তম ওভারে হেটমায়ার এবং ১৯তম ওভারে রোমারিও শেফার্ড ফিরে যান, স্যাম্পসন আর কোনো বিপদ হতে দেননি। নিজের মুখোমুখি হওয়া শেষ চার বলে ছক্কা, ছক্কা, চার ও ছক্কা মেরে দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেন তিনি।