Home খেলাধুলা তোরেসের হ্যাটট্রিক ও দেম্বেলের জোড়া গোলে পিএসজির উৎসবের রাত

তোরেসের হ্যাটট্রিক ও দেম্বেলের জোড়া গোলে পিএসজির উৎসবের রাত

0


স্পোর্টস ডেস্ক

চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার নিজেদের মাঠে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে। চলতি মৌসুমে এটাই তার প্রথম গোল।

প্রথমার্ধেই দুই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দেম্বেলে। পাশাপাশি দুটি গোলেও সহায়তা করেছেন তিনি। তার বাড়ানো বল থেকে দুই অর্ধেই গোল করেন নতুন দলে আসা ফেরান তোরেস। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড করেন হ্যাটট্রিক। বার্সেলোনা ছেড়ে মৌসুমের শুরুতে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর তার গোলসংখ্যা এখন পাঁচটি।

ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে ছয় গোল করা দেম্বেলের জন্য এই ম্যাচটি ছিল ছন্দে ফেরার দারুণ উপলক্ষ। ঘরোয়া মৌসুমের শুরুটা তার জন্য হতাশাজনক হলেও স্লোভানের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে সেই হতাশা অনেকটাই দূর করেছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে দেম্বেলে বলেন, ‘আমরা আনন্দিত, আমিও নিজের পারফরম্যান্সে খুশি। বেশ কঠিন একটা শুরু হয়েছিল, কারণ খুব বেশি খেলতে পারিনি। আজ ৬০ মিনিট মাঠে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’

বিশ্বকাপে ফ্রান্স সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ায় মৌসুমের বিরতিতেও খুব বেশি বিশ্রামের সুযোগ পাননি দেম্বেলে। ১৪ জুলাই স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ফ্রান্স।

নিজের শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে দেম্বেলে বলেন, ‘শারীরিকভাবেও আমাকে ফিরতে হতো। কারণ বিশ্বকাপের পর খুব বেশি ছুটি পাইনি।’

ঘরোয়া লিগে পিএসজির প্রথম ম্যাচে রেনের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের সময় নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে বিরতিতেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরের ম্যাচে লিলের বিপক্ষে তাকে একাদশে রাখেননি কোচ লুইস এনরিকে। এরপর গত শুক্রবার মোনাকোর বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমেও কার্যকর কিছু করতে পারেননি তিনি।

স্লোভানের বিপক্ষে ১৭ মিনিটে পিএসজিকে এগিয়ে দেন দেম্বেলে। নুনো মেন্দেসের বাঁক নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফিরতি বল জালে পাঠান তিনি।

কয়েক মুহূর্ত পর পেনাল্টি এলাকার বাঁ দিকের ভেতর থেকে নেওয়া শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। তবে ২৩ মিনিটে আবারও গোল করেন দেম্বেলে। ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার দ্রো ফের্নান্দেসের ডান দিক থেকে বাড়ানো ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান তিনি।

দেম্বেলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন স্লোভানের কোচ ইয়ায়া তোরে।

তিনি বলেন, ‘আজ সে ২০০ শতাংশ দিয়েছে এবং আমাদের সত্যিই ভুগিয়েছে। সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। তার ওপর তিন-চারজন খেলোয়াড় লাগিয়ে দিলে মাঠের অন্য জায়গায় অনেক ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে।’

এরপর তোরেসকে দিয়ে গোল করান দেম্বেলে। তার বাড়ানো বলের দিকে এগিয়ে গিয়ে দারুণভাবে তা জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

কিছুক্ষণ পর নিজের তৃতীয় গোলের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় হতাশায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন দেম্বেলে। কাছ থেকে নেওয়া তার শট কীভাবে যেন ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর আগের দিন পিএসজির ১০ খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। গত বছর প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন দেম্বেলে।

স্লোভানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে টানা চার ম্যাচে জয়হীন ছিল পিএসজি। এর মধ্যে সাতটি গোল হজম করেছে তারা এবং লেন্সের কাছে ফরাসি সুপার কাপের শিরোপাও হারিয়েছে।

দেম্বেলে বলেন, ‘গোল করা, গোলে সহায়তা করা, জয় পাওয়া—ফুটবলের এসবই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। আমাদের শুরুটা ভালো ছিল না। লেন্সের কাছে সুপার কাপে হার কিংবা লিগের ম্যাচগুলো—সবখানেই আমরা সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু আজকের রাতটা দারুণ ছিল। আমাদের এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। আরও বেশি কঠোর হতে হবে, কারণ আমরা দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা দল এবং সবাই আমাদের হারাতে চায়।’

তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে পিএসজি। মোট ৩৫টি শট নেয় তারা, যার ১৩টি ছিল লক্ষ্যে।

বিরতির পর নিজের দ্বিতীয় গোলটিতে দারুণ দক্ষতার পরিচয় দেন তোরেস। মাগনেস আকলিউশের বাড়ানো বল নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পেনাল্টি এলাকার প্রান্ত থেকে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি।

আকলিউশে মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্তভাবে বল নিয়ে এগিয়ে এসে গোলটির সুযোগ তৈরি করেন। গত মৌসুমে মোনাকোর হয়ে পিএসজির বিপক্ষেও এমন দৌড় দেখা গিয়েছিল তার।

৫৭ মিনিটে ডান দিক থেকে দেম্বেলের নেওয়া কর্নার থেকে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তোরেস। কিছুক্ষণ পর সুলেইমান কামারা দারুণ ফিনিশিংয়ে স্লোভানের হয়ে একটি গোল শোধ করেন।

অবশ্য চাপে থাকা স্লোভানের জন্য কামারার পারফরম্যান্সই ছিল ম্যাচের অন্যতম ইতিবাচক দিক। শেষ দিকে তাদের দুর্বল রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পেয়ে যান ফাবিয়ান রুইস। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পিএসজির ষষ্ঠ গোলটি করেন তিনি।

নতুন ক্লাব লিভারপুলের হয়ে আক্রমণভাগে ব্র্যাডলি বারকোলা মাঠে নামার পর তার জায়গায় পিএসজির হয়ে খেলেন আকলিউশে। তোরেস ও দেম্বেলের সঙ্গে মিলে তিনি বেশ ভালো বোঝাপড়া তৈরি করেন। তাদের সম্মিলিত আক্রমণে স্লোভানের সীমিত সামর্থ্যের রক্ষণভাগ বারবার ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে।

গত মৌসুমে পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খভিচা কাভারাতসখেলিয়াকে অবশ্য বদলি বেঞ্চে রেখেছিলেন লুইস এনরিকে। বারকোলা ও স্ট্রাইকার গনসালো রামোস এসি মিলানে চলে যাওয়ার পর আক্রমণভাগকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছেন পিএসজি কোচ।