Home স্বাস্থ্য চিকিৎসার পরও পাইলস কেন ফিরে আসতে পারে

চিকিৎসার পরও পাইলস কেন ফিরে আসতে পারে

0


মিলি রহমান।।

পাইলসের চিকিৎসার পর অনেকেরই রক্তপাত, ব্যথা কিংবা মলত্যাগের সময় অস্বস্তির মতো সমস্যা কমে যায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও ফিরে আসা সম্ভব হয়। কিন্তু কিছুদিন বা কয়েক মাস পর একই ধরনের উপসর্গ আবার দেখা দিলে অনেকেই ভাবেন, আগের চিকিৎসা তাহলে কি কাজ করেনি? আসলে সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। পাইলসের চিকিৎসার পরও কিছু অভ্যাস ও শারীরিক পরিস্থিতির কারণে আবার সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার কখনও আগের উপসর্গের মতো মনে হলেও সেটি অন্য কোনো মলদ্বার-সংক্রান্ত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। পাইলসের সমস্যা ফিরে আসার পেছনে যেসব কারণ থাকতে পারে, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

১. কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো মূল সমস্যাটি রয়ে গেছে

পাইলসের চিকিৎসা করানোর পর উপসর্গ কমে গেলেও এর পেছনে থাকা কারণটি সবসময় দূর হয় না। যেমন দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে শক্ত মল বের করতে অতিরিক্ত চাপ দিতে হতে পারে। চিকিৎসার মাধ্যমে পাইলসের আক্রান্ত টিস্যুর সমস্যা কমানো গেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য যদি থেকেই যায়, তাহলে মলত্যাগের সময় আবারও ওই অঞ্চলে চাপ পড়তে পারে। অর্থাৎ, শুধু পাইলসের চিকিৎসা নয়, এর পেছনে থাকা কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের সমস্যারও যথাযথ সমাধান প্রয়োজন। ২০২২ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় হেমোরয়েড আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যকরী কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি দেখা যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় মলদ্বারে বাড়তি চাপের সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২. পুরোনো মলত্যাগের অভ্যাস আবার ফিরে এসেছে

চিকিৎসার পর অনেকেই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনেন। পর্যাপ্ত পানি পান করা, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং টয়লেটে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় না কাটানোর মতো অভ্যাস তৈরি করেন। কিন্তু উপসর্গ কমে গেলে অনেকেরই আগের রুটিনে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কম পানি পান করা, খাবারে আঁশের পরিমাণ কম থাকা, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া কিংবা মলত্যাগের তাগিদ বারবার আটকে রাখার মতো অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে। টয়লেটে দীর্ঘসময় বসে থাকাও এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে মোবাইল ফোন নিয়ে টয়লেটে বসে থাকার অভ্যাস থাকলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় সেখানে কাটানো হয়ে যেতে পারে।

২০২৫ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সার্জারি’ জার্নালে প্রকাশিত ৫৮০ জনকে নিয়ে করা এক গবেষণায় মলদ্বার-সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ২০ মিনিটের বেশি সময় টয়লেটে বসে থাকার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তবে এটি একটি সম্পর্ক নির্দেশ করে; দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকাই সরাসরি পাইলসের কারণ—এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না।

৩. কিছু হেমোরয়েড টিস্যু থেকে যেতে পারে

সব ধরনের পাইলসের চিকিৎসা একইভাবে করা হয় না। রোগের ধরন, আকার, সংখ্যা এবং ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে একাধিক ধাপে চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে। তাই চিকিৎসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই যদি একই ধরনের উপসর্গ আবার দেখা দেয়, তাহলে সেটিকে নতুন করে পাইলস হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আগের চিকিৎসার পর কোনো আক্রান্ত টিস্যু রয়ে গেছে কি না, সেটিও চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।

৪. শরীরে অন্য কোনো কারণে মলদ্বারে চাপ বাড়ছে

শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য নয়, আরও কিছু শারীরিক কারণ মলদ্বারের আশপাশে চাপ বাড়াতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা দীর্ঘসময় বসে থাকার মতো বিষয়গুলোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের কোনো কারণ যদি থেকে যায়, তাহলে শুধু পাইলসের চিকিৎসা করলেই সমস্যার সব কারণ দূর নাও হতে পারে। তাই উপসর্গ আবার দেখা দিলে আগের মতো একই চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি সমস্যাটি কেন হচ্ছে, সেটিও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।

৫. নতুন উপসর্গটি আসলে পাইলসের কারণে নাও হতে পারে

আগে পাইলস হয়েছিল বলে পরবর্তী সময়ে মলদ্বার থেকে রক্তপাত, ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলেই সেটিকে আবার পাইলসের সমস্যা মনে করা স্বাভাবিক। তবে একই ধরনের উপসর্গ অন্য মলদ্বার-সংক্রান্ত সমস্যাতেও দেখা দিতে পারে। তাই নতুন করে রক্তপাত, ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি দেখা দিলে নিজে থেকে আগের রোগের পুনরাবৃত্তি ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণটি নিশ্চিত করা জরুরি।

পাইলস আবার ফিলে এলে কী করবেন?

পাইলসের চিকিৎসার পর উপসর্গ ফিরে এলে শুধু আগের চিকিৎসা আবার শুরু না করে এর পেছনে থাকা কারণটি খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং টয়লেটে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসময় না কাটানোর মতো অভ্যাস বজায় রাখা উপকারী হতে পারে। তবে রক্তপাত বা অন্য কোনো উপসর্গ বারবার হলে কিংবা নতুন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।