আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, গতকাল বুধবার পদত্যাগ করেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে পুতুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে একটি প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ হাসিনার মেয়ে বলেছেন, তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগদানের আগেই ওই জমির মালিকানা লাভ করেছিলেন। তার দাবি, শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি সেই জমির অধিকারী ছিলেন।
পদত্যাগপত্রে পুতুল আরও লেখেন, ‘আমি আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং আমি আন্তরিকভাবেই তা করেছি। যেহেতু আপনি আমাকে আমার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে বাধা দিচ্ছেন, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আপনার নেতৃত্বের ওপর থেকে আমার সব ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস উঠে গেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমাকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে গত প্রায় এক বছর কোনো বেতন না পাওয়ায় আমার আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুতুল।
পরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেন পুতুল। তবে তাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত বছরের শেষ দিকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করলে জুলাইয়ে প্রথম তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়।
গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া পুতুলের আইনজীবীদের পৃথক এক চিঠি অনুযায়ী, সংস্থাটি পুতুলকে চীন সফরকালে আর্থিক জালিয়াতি এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে। তবে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি সূত্র জানিয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই করেছিল জাতিসংঘের এই সংস্থা।
একটি সূত্র জানায়, ডব্লিউএইচও আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করবে, ডিসেম্বরে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করবে এবং ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য দেশগুলো (বাংলাদেশ ও ভারতসহ) প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোট দিয়ে এই পরিচালক বেছে নেয়।








































