Home আঞ্চলিক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পুনর্গঠনের চেষ্টা: খুলনায় ছাত্রদল, এনসিপি ও শিবিরের চরম হুঁশিয়ারি

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পুনর্গঠনের চেষ্টা: খুলনায় ছাত্রদল, এনসিপি ও শিবিরের চরম হুঁশিয়ারি

52


স্টাফ রিপোর্টার।।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম স্তিমিত হলেও খুলনায় গোপনে সাংগঠনিক তৎপরতা ও কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগের তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি ফেসবুকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করে প্রচারিত একটি বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে নতুন কমিটিতে পদ পেতে নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজপথে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির।

ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি ও পদপ্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ
জানা গেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ই-মেইলের মাধ্যমে পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ আবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক অনেক ছাত্রলীগ নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা ও শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।

সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুম্মান আহমেদ জানান, তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক রেখে সংগঠিত হতে চান। তবে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পারভেজ হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করার তৃপ্তি প্রকাশ করে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন।

ছাত্রনেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি ও প্রতিক্রিয়া
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই তৎপরতাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি অবমাননা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): এনসিপি খুলনা মহানগরের সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে জনগণ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। ঝটিকা মিছিল করে জনমনে আতঙ্ক তৈরির ব্যর্থ চেষ্টা চলছে। খুলনার মাটিতে কোনো ফ্যাসিবাদী অপতৎপরতা বা পুনর্বাসনের চেষ্টা ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই প্রতিহত করা হবে।”

ছাত্রদল: খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম রাজিবুল আলম বাপ্পি বলেন, “বিদেশে বসে শীর্ষ নেতারা যে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, তাতে মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকেরাই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। ঝটিকা মিছিল বা ভার্চুয়াল রাজনীতি করে জনসমর্থন পাওয়া যাবে না।”

ইসলামী ছাত্রশিবির: খুলনা মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি রাকিব হাসান বলেন, “গোপনে কর্মসূচি দিয়ে জনসমর্থন অর্জন করা যায় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও প্রশাসনের বক্তব্য
ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এখনও বিগত সরকারের প্রভাব থেকে যাওয়ার কারণেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এজন্য নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুলিশের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান ও পেশাদার করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এম এম শাকিলুজ্জামান এবং খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জেলা ও মহানগরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।