যশোর অফিস।।
প্রতি বর্ষায় একই করুণ দৃশ্য, একই আর্তনাদ। এবারও টানা বর্ষণে ডুবে গেছে যশোরের ‘দুঃখ’ খ্যাত ভবদহ অঞ্চল। চার দশকে হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় এবং একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও মেলেনি স্থায়ী কোনো সমাধান। উল্টো অসম্পূর্ণ নদী খনন, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতা এবং পানি নিষ্কাশনে নানা বাধার কারণে এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এই জলাবদ্ধতা। ইতিমধ্যে যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবদহ এলাকার বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে হাজারো পরিবার। দেখা দিয়েছে চরম গোখাদ্য, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের সংকট।
মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা বীথি রানী আকুল কণ্ঠে বলেন, “উঠানে কোমরপানি, জল ঢুকেছে গোয়ালঘর ও রান্নাঘরেও। গরু-ছাগল নিয়ে উঁচু রাস্তায় চালা বানিয়ে সবাই রাতযাপন করছি। চারদিকে জল আর জল! সাপ, পোকামাকড়ের সঙ্গে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে এভাবে বাঁচা যায়?”
একই অবস্থা পুরো ভবদহজুড়ে। মনিরামপুরের কুলটিয়া, নেহালপুর এবং অভয়নগরের পায়রা, প্রেমবাগ, চলিশিয়া ও সুন্দলী ইউনিয়নের অন্তত ৮০ হাজার মানুষ পুরোপুরি পানিবন্দী। মনিরামপুরের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের সুবেন বিশ্বাস জানান, চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এখন বাঁশের সাঁকো।
প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের অভিযোগ:
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে দুই বছর আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয়নি, যা দিয়ে ভবদহের প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশন সম্ভব ছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে নেওয়া ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজও অসম্পূর্ণ। নদী খননের সময় খর্নিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ এবং জমা পলি অপসারণ না করায় পানি নামতে পারছে না।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ জানান, তিন জেলার দুই শতাধিক গ্রাম ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত না সরালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য:
পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ চলছে জানিয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, “খর্নিয়া সেতুর প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে। ভবদহের তিনটি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই আরও কয়েকটি গেট খুলে দেওয়া হবে। গেটগুলো দিয়ে দ্রুতগতিতে পানি নামছে, আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”









































