বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিজেকে সামরিক কর্মকর্তা (অফিসার) পরিচয়ে একাধিক বিয়ে, যৌতুক দাবি, পরকীয়া, মাদকসংশ্লিষ্টতা এবং প্রথম স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোঃ আতিকুল ইসলাম (সিরিয়াল নম্বর: ২০০৬০৮৬৪, পদবি: এলটপ)।

তিনি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার তুলারামপুর গ্রামের মোঃ কালাম মিয়া ও রোকেয়া বেগমের ছেলে। অভিযোগকারী প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ অমৃত আরা মিথি জানান, ২০১০ সালের ১৯ নভেম্বর ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক আতিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় এবং তাঁদের সংসারে ‘বুশরা’ নামে ১৪ বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু নৌবাহিনীর সাধারণ কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে উচ্চপদস্থ ‘অফিসার’ পরিচয় দিয়ে আতিকুল দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ফাতেমা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করলেও পরে আসল পরিচয় ফাঁস হলে ওই নারী তাঁকে ছেড়ে চলে যান।
সর্বশেষ গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে খুলনা থেকে এক তরুণীকে জোরপূর্বক নিয়ে এসে নিজ এলাকায় বিয়ের চেষ্টা চালান আতিকুল ও তাঁর সহযোগীরা। ওই তরুণী আতিকুলের আগের স্ত্রী-সন্তানের কথা জানতে পেরে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও কাবিননামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে নিজ এলাকার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে প্রথম স্ত্রী মিথি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন আতিকুল ও তাঁর পরিবার। বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সন্তানের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না এবং ভরণপোষণ বন্ধ রেখেছেন। আতিকুলের মা রোকেয়া বেগম ও বোন আয়েশা বেগমের মদদে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি আতিকুল নিজে মাদকসেবী ও মাদকের কারবারের সাথে সরাসরি জড়িত বলেও জানা গেছে। ভুক্তভোগী মিথি জানান, আতিকুল বাগেরহাটের মোংলা দিগরাজস্থ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জোনের জাহাজ ‘কামরুজ্জামান’-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে জোনাল কমান্ডারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী প্রধান, ডিজিএফআই-সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন পাঠালেও দীর্ঘ ৫ মাসেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এমনকি আতিকুলের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো আতিকুল প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তাঁর অত্যাচারে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় অন্যায় ও নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার এবং জীবন সুরক্ষার জন্য উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী।









































