Home Lead রাজধানীর তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

রাজধানীর তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

0

ঢাকা অফিস।।

রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া মাদ্রাসা ও ঢাকা কলেজ এবং সংলগ্ন এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে দফায় দফায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে সাংবাদিক, শিক্ষক ও ছাত্রনেতাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন কেন্দ্র করে হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৫ই আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠান চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

অভিযোগ উঠেছে, এসব প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক ও সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক আহত হন। এ ছাড়া জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিঞা, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসিভ এবং কয়েকজন শিক্ষক রক্তাক্ত হন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় হেঁটে যেতে দেখা যায়।

হাসপাতালের সামনে ও আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সহিংসতার জের ধরে দুপুর আড়াইটার দিকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পুরান ঢাকার তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ)-এর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে বেলা ৪টার পর পুরান ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাতেও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে ন্যাশনাল মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আহতদের ওপরও হামলা চালায় ছাত্রদল। আহতরা হাসপাতালের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।

ঢাকা কলেজে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার সময় হামলা

এদিকে দুপুর সাড় ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসেও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২ এ শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজনেই এ হামলার সূচনা। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫-৬ জন সাজসজ্জার কাজ করার সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় গুরুতর আহত ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে মিছিল বের করে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরান ঢাকা ও ঢাকা কলেজ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।