Home আঞ্চলিক ডুমুরিয়ায় ছোট কৈয়া নদী দখল করে মসজিদের নামে মাছ চাষের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ...

ডুমুরিয়ায় ছোট কৈয়া নদী দখল করে মসজিদের নামে মাছ চাষের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

30

এম রোমানিয়া।।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পশ্চিম বাদুরগাছা এলাকায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত ‘ছোট কৈয়া নদী’ বেআইনিভাবে দখল করে মসজিদের নামে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সরকারি নদী দখলের এই অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিম বাদুরগাছা বায়তুল মামুর জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সরকারি খাল বা ছোট কৈয়া নদীটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে উন্মুক্ত জলাশয় বা নদী-খাল ইজারা প্রথা ও বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে বলে প্রশাসন থেকে মৌখিকভাবে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারা না পাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্টরা জোরপূর্বক ছোট কৈয়া নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। একই সঙ্গে নদীর পাড়ে ‘পশ্চিম বাদুরগাছা বায়তুল মামুর জামে মসজিদ’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে পুরোদমে বাণিজ্যিক মৎস্য খামার পরিচালনা শুরু করেন।

এলাকাবাসীর একাংশ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, ছোট কৈয়া নদী একটি অবমুক্ত সরকারি জলাশয়। এর নামে কোনো বৈধ ইজারা বা বরাদ্দপত্র নেই। অথচ মসজিদের উন্নয়নের অজুহাত দেখিয়ে ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীটি দখলের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরা বা পানি ব্যবহারের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মসজিদ ও মাদ্রাসার ধর্মীয় কাজের জন্য সরকারের রাজস্ব খাত ও ওয়াকফ বোর্ড থেকে নিয়মিত অনুদান ও সহযোগিতা দেওয়া হয়। কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সরকারি নদী-খাল দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা কোনোভাবেই আইনসম্মত বা নীতিগত কাজ হতে পারে না। এটি মূলত এক ধরনের দখলদারি, যা ধর্মীয় শিক্ষার পরিপন্থী।”

এ ঘটনায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পশ্চিম বাদুরগাছা বায়তুল মামুর জামে মসজিদ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে স্পষ্ট জানান, ছোট কৈয়া নদী বা খালটি পশ্চিম বাদুরগাছা বায়তুল মামুর জামে মসজিদের নামে কোনো প্রকার ইজারা বা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সরকারি আদেশ অনুযায়ী নদী দখল করে মাছ চাষের কোনো সুযোগ নেই।

নদীটি দখলমুক্ত করতে এবং এর অবৈধ ইজারা ও মাছ চাষের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এবং নদী উদ্ধার করে উন্মুক্ত রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট জরুরি ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।