Home Lead হাতে-নাতে জালিয়াতি: কেসিসির বৃক্ষরোপণে ভুয়া শ্রমিকের নাম ভাঙিয়ে অর্থ লোপাট

হাতে-নাতে জালিয়াতি: কেসিসির বৃক্ষরোপণে ভুয়া শ্রমিকের নাম ভাঙিয়ে অর্থ লোপাট

87
বৃক্ষরোপনের ছবি---খুলনাঞ্চল


স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ও ভুয়া শ্রমিকের হাজিরা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, চরম অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। কেসিসির নিজস্ব তদারকিতে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় হাতে-নাতে ধরা পড়েছে শ্রমিকের ভুয়া উপস্থিতির প্রমাণ। এ ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


কেসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল-ইমরান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক স্মারক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ৫০,০০০ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে তদারকির লক্ষ্যে গঠিত ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল-ইমরান গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাস্তুহারা বস্তি ও বাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় কেসিসির চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আকস্মিক পরিদর্শন করেন।


পরিদর্শনের সময় উপস্থিত শ্রমিকের হিসাব সংরক্ষণকারী ও সম্পত্তি শাখার সহকারী এস্টেট অফিসার মোঃ শেখ মাসুদ আলীর নিকট শ্রমিকের সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে তিনি ৩৩ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন বলে জানান। কিন্তু এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিনে নিজে গণনা করে মাত্র ২৯ জন শ্রমিক পান, যা তাৎক্ষণিকভাবে ৪ জন শ্রমিকের অমিল প্রকাশ করে।


পরবর্তীতে এই অসংগতির সূত্র ধরে ১৩ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত আফিশিয়াল হাজিরা শিটের সাথে লেবার সর্দারের ব্যক্তিগত নোট বুকের তথ্য নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। দীর্ঘ যাচাইয়ে লেবার সর্দারের প্রকৃত নথির সাথে অফিশিয়াল হাজিরা খাতার ব্যাপক গরমিল ও সূক্ষ্ম জালিয়াতি উন্মোচিত হয়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুয়া লেবার দেখিয়ে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে।


এ বিষয়ে শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানকারী সম্পত্তি শাখার অফিস সহকারী (মাস্টাররোল কর্মচারী, নো-ওয়ার্ক-নো-পে) মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন এবং হিসাব সংরক্ষণকারী সহকারী এস্টেট অফিসার মোঃ শেখ মাসুদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা কেউই কোনো সন্তোষজনক সদুত্তর দিতে পারেননি।


নথিতে উল্লেখ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় কর্মসূচিতে সম্পত্তি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্ব অবহেলার পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতি কেসিসির ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।


উক্ত অনিয়ম, প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে জালিয়াতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বরাবর আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল-ইমরান।