ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ। ফাইনালে উঠেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। একতরফা ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে লিওনেল মেসির দল। নিউইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার পরই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, মেসির ক্যারিয়ার নিয়ে। তিনি কি এবার সত্যি সত্যি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন? নাকি আরও কয়েক বছর খেলে যাবেন? এমনকি এমন কথাও উঠেছে, ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলতে পারেন মেসি।
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি কেমন হতে পারে- এ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে যখন নানা আলোচনা, তখন নতুন এক প্রস্তাব নিয়ে এলেন আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত হোয়াকিন মারিয়া দে আরিস্তেগুই লাবোর্দে। তার মতে, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালিসিমা ম্যাচই হতে পারে মেসির বিদায়ের সবচেয়ে উপযুক্ত মঞ্চ। রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ এই কূটনীতিক বলেন, ‘কেন সেই ম্যাচটিকে লিওনেল মেসির জন্য একটি দুর্দান্ত বিদায় অনুষ্ঠানে পরিণত করা হবে না?’
৩৯ বছর বয়সী মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। এমন পরিস্থিতিতে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ওই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন এবং কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন, যারা একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নও।
স্পেন রাষ্ট্রদূত আরিস্তেগুই মনে করেন, এই দুই দলের মধ্যে আরেকটি লড়াই ফুটবলের জন্য প্রাপ্য। তিনি বলেন, ‘ফুটবল এই দুই দলের আরেকটি ম্যাচ পাওয়ার যোগ্য। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে সেটি সম্ভব হবে।’
মূলত ২০২৬ সালের মার্চে কাতারের দোহায় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালিসিমা ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নির্ধারিত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
এরপর ম্যাচটি মাদ্রিদ, বুয়েনস আইরেস কিংবা রোমে আয়োজনের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), কনমেবল ও উয়েফা নিরপেক্ষ ভেন্যু এবং আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তারিখ নিয়ে একমত হতে পারেনি।
পরবর্তী সময়ে উয়েফা নির্ধারিত সম্ভাব্য তারিখও বাতিল করে দিলে শেষ পর্যন্ত ফিনালিসিমা আয়োজনের পরিকল্পনা পরিত্যক্ত হয়।
ফাইনালিসিমা না হলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হলো আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে একতরফাভাবে খেলেছে স্পেন। নিজেদের জালে বল নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঢুকতেই দেয়নি। ১২০ মিনিটের ম্যাচে স্পেনের গোলমুখে অন টার্গেটে একটি শটও নিতে পারেনি লিওনেল মেসির দল। একতরফা খেললেও ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন।
বিশ্বকাপ চলাকালে কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ পর্যন্ত মন্তব্য করেছিলেন, আর্জেন্টিনাকে তিনি ‘ফাইনালিসিমার দুবারের চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবেই দেখেন। অন্যদিকে স্পেন দাবি করেছিল, ম্যাচটি না হওয়ার জন্য তাদের ফুটবল ফেডারেশন দায়ী ছিল না।










































