স্টাফ রিপোর্টার।।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান ও অনিয়মের সত্যতা মিললেও খোলস পাল্টায়নি খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রোগী প্রতি বাড়তি ভিজিট, অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অনিয়ম-দুর্নীতি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে কমিশন বাণিজ্য এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহের পুরনো ধারা অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালটির প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় ও জিম্মি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক রোগীরা।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খুলনা দুদকের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে রোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম খাবার (১৫১ গ্রাম মাছের জায়গায় ৩পর মাত্র ৩৯ গ্রাম) দেওয়া, নিম্নমানের চাল সরবরাহ, টিকিটে অতিরিক্ত টাকা আদায়, যথাসময়ে চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা না দেওয়া এবং বিনামূল্যে বিতরণের ওষুধ সরবরাহ না করার প্রমাণ পায় দুদক।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন দুদক কমিশন পুনর্গঠিত না হওয়ায় বা প্রশাসনিক আদেশের অপেক্ষায় তদন্ত রিপোর্ট ঝুলে থাকার সুযোগে আগের বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছে দুর্নীতিবাজ চক্রটি। তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এখনও স্বপদে বহাল থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেট ব্যবহার করে অনাচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
হাসপাতালটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং গড়ে ৬৫-৭২ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যের কারণে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ৩০টি টেস্ট করার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাড়তি সুবিধা পেতে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক থেকে টেস্ট না করালে অনেক সময় চিকিৎসকরা রিপোর্ট দেখতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রেও চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। ফুলতলা থেকে খুলনা সদরে রোগী পৌঁছাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৩০০ টাকা রাখার কথা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সিরাজগঞ্জের লোক হিসেবে পরিচিত পরিসংখ্যানবিদ তোতা মিয়াকে দিয়ে বেআইনিভাবে ক্যাশিয়ার, স্টোরকিপার ও কমিশন কালেকশনের কাজ করানো হচ্ছে। ফার্মাসিস্টের বদলে ওষুধ সংরক্ষণের মতো স্পর্শকাতর কাজও নিয়ন্ত্রণ করছেন তোতা মিয়া।
হাসপাতালে ৪র্থ শ্রেণির ২৩টি পদের বিপরীতে ৬ জন কর্মরত। মাত্র ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে বিশাল হাসপাতাল চালানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরা জানান, জনবল সংকট ও সরকারি ওষুধ শেষ পর্যায়ে থাকায় কিছুটা সমস্যা হলেও সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি সরাসরি অফিসে এসে কথা বলার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন জানান, জনবল সংকট পুরো জেলাই রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









































