নড়াইল প্রতিনিধি।।
জীবনের সায়াহ্নে এসে যে বয়সে সন্তান-সন্ততি আর স্বজনদের সান্নিধ্যে একটু নিশ্চিন্ত সুখে দিন কাটানোর কথা, সেই ৬৫ বছর বয়সে এক নির্মম জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি নড়াইলের অবলা বাগচী। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও তীব্র ব্যাধিাক্রান্ত স্বামীকে বিছানায় ফেলে রেখে প্রতিদিন বেঁচে থাকার তাগিদে ঘরের বাইরে ছুটতে হচ্ছে এই বৃদ্ধাকে। অভাব আর জরা যাকে ঘিরে ধরেছে চারপাশ থেকে, সেই অবলার কপালে জোটেনি সন্তানদের এতটুকু ছায়া।
নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামে অন্যের এক চিলতে জমিতে কোনোমতে মাথা গুঁজে আছেন অবলা বাগচী ও তার স্বামী সমীর বাগচী। একসময় এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাদেরও ছিল ভালোবাসায় ঘেরা ছোট এক সুখের সংসার। কিন্তু কালের নির্মম আবর্তে সন্তানরা নিজেদের জীবন গুছিয়ে নিলেও ভুলতে বসেছে জন্মদাত্রী মা আর জরাজীর্ণ বাবাকে। অবুঝ বার্ধক্যে বাবা-মায়ের কোনো খবরাখবরই তারা নেন না আর।
সংসারে স্থায়ী বলতে কিছুই নেই। অসুস্থ সমীর বাগচী দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় ছটফট করছেন চিকিৎসাবিহীন। স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর সংসারের পুরো দায়ভার একাই নিজের কাঁধে তুলে নেন অবলা। বয়সের ভারী বোঝা উপেক্ষা করে কখনো অন্যের জমিতে জন খেটে সবজি চাষ করেন, আবার কখনো ছাগল চড়িয়ে যে সামান্য আয় করেন—তা দিয়েই আধপেটা খেয়ে বেঁচে আছেন তারা।
দু চোখের জল মুছে অবলা বাগচী আক্ষেপের সুরে বলেন, “স্বামীর ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে পারি না, নিজের খাওয়ারও ঠিক নেই। অভাবের সংসার, রক্ত জল করা সন্তানরাও আজ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে শত কষ্টের মধ্যেও সন্তানদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, ওরা ভালো থাকুক।”
নিজেদের মাথার ওপর ছাদ নেই, নেই কোনো সুনির্দিষ্ট আয়ের উৎস। যে বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা, সেই বয়সে অসুস্থ স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে অকাতরে ঘাম ঝরাচ্ছেন এই অবলা নারী। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই বৃদ্ধ বয়সে অবলা বাগচীর এই মানবিক লড়াই বুক ফাটিয়ে দেয়। বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষরা যদি একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিতেন, তবে হয়তো জীবনের শেষ দিনগুলোতে একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলতে পারতেন এই অবহেলিত দম্পতি।









































