Home আঞ্চলিক ভাঙা পথ আর বাঁশের সাঁকোতেই আশাশুনির ৬ গ্রামের ২৮ হাজার মানুষের চরম...

ভাঙা পথ আর বাঁশের সাঁকোতেই আশাশুনির ৬ গ্রামের ২৮ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

2

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।।

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবের দীর্ঘ ছয় বছর পার হলেও পুনর্নির্মাণ হয়নি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। একই সাথে মূল খালের ওপর প্রয়োজনীয় সেতু বা কালভার্ট নির্মিত না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে ৬টি গ্রামের অন্তত ২৮ হাজার মানুষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে কপোতাক্ষ নদের পুরোনো লঞ্চঘাট এবং সনাতনকাটি-নাকনা সংযোগ সড়কটির প্রায় চার কিলোমিটার অংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। পানির তোড়ে সড়কের বেশ কিছু স্থান ভেঙে গভীর খালে পরিণত হওয়ায় বিগত কয়েক বছরেও তা চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হয়নি।

গড়াইমহল খালের ওপর স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলের স্বার্থে তৈরি করেছেন প্রায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জীবন হাতে নিয়ে পার হতে হয়।

বর্ষার মৌসুমে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমনকি প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের সাঁকো পার হতে অন্যদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

সড়ক ও সেতু না থাকায় যেকোনো জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল বা ভ্যান যানবাহন এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গর্ভবতী নারী ও মুমূর্ষু রোগীদের কোলে বা চেয়ারে করে সাঁকো পার করিয়ে নৌকায় করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়, যা রাতের বেলা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ৬টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। বিষয়টি সমাধান ও সড়ক-সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে বারবার জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন হওয়ায় কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে পাউবোর প্রক্রিয়াগত অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন। অনাপত্তিপত্র মিললেই এলজিইডি’র পক্ষ থেকে দ্রুত সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।