Home খেলাধুলা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে বেটিংয়ে রেকর্ড

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে বেটিংয়ে রেকর্ড

2


স্পোর্টস ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াভিত্তিক বেটিং বাজারে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ গড়েছে নতুন ইতিহাস। দেশটির বিভিন্ন বেটিং প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সেবাদাতাদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে মোট বেটিংয়ের পরিমাণ ও অংশগ্রহণ আগের সব ফুটবল আসরকে ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে চলা অন্যান্য বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকেও টক্কর দিয়েছে এই আসর।

দেশটির অন্যতম বড় বেটিং প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পুরুষ ও নারী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা মিলিয়েও যে পরিমাণ বেটিং ধরা হয়, তার তুলনায় ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে বেটিংয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। অর্থমূল্যের দিক থেকেও বিশ্বকাপ এগিয়ে ছিল।

উত্তর আমেরিকায় আয়োজন, দর্শকদের জন্য সুবিধাজনক সময়ে ম্যাচ, বেশি সংখ্যক খেলা এবং ফুটবল নিয়ে বাড়তি উন্মাদনার কারণে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে বেটিংয়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। একটি শীর্ষ বেটিং প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চার বছর আগের তুলনায় তারা ৬৫০ শতাংশ বেশি বেটিং গ্রহণ করেছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ছিল ২১১ শতাংশ।

এক প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিল ওয়ালশ বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের বেটিংয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি যেন একসঙ্গে দশটি সুপার ফাইনালের সমান। যে খেলাকে একসময় বলা হতো, আমেরিকানরা কখনোই আপন করে নেবে না, সেই খেলাই ইতিহাস গড়েছে। পুরো দেশ এতে অংশ নিতে চেয়েছে।’

স্পেন ১–০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জেতা ফাইনাল ম্যাচটি একাধিক বড় বেটিং প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বেটিং ধরা ফুটবল ম্যাচে পরিণত হয়েছে। বেটিংয়ের সংখ্যা এবং মোট অর্থ—উভয় দিক থেকেই এটি নতুন রেকর্ড গড়েছে।

একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, শুধু ফাইনাল ম্যাচেই তারা ২০ লাখের বেশি বেটিং গ্রহণ করেছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডের ম্যাচের তুলনায় এই ফাইনালে বেটিংয়ের অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে তাদের যে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল, ফাইনাল সেটিকেও ৪ দশমিক ৪ গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

আর্জেন্টিনা এবং দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। বিভিন্ন বাজি প্রতিষ্ঠানে মেসিকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত বেটিং ধরা হয়েছে। দল হিসেবেও আর্জেন্টিনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি টিকিট কাটা হয়। একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গভীর রাতের ম্যাচ চলাকালে ৭৬ লাখ অবস্থান যাচাইয়ের তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে, যা অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ রাতের ম্যাচকেও ছাড়িয়ে গেছে।

অবশ্য স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও বেটিংয়ের বাজারে ছিল অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। দৈনন্দিন ম্যাচ ও ভবিষ্যৎ ফলাফলের বাজিতে দেশটির জাতীয় দলকে ঘিরে ছিল সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল বাজি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির দল।

এদিকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের জন্য ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে বেটিং শুরু হয়েছে। স্বাগতিক স্পেনকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের পরেই রয়েছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। আরেক স্বাগতিক পর্তুগালের সম্ভাবনাও ইংল্যান্ডের সমান ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৬ সালের রানার্সআপ আর্জেন্টিনাকে রাখা হয়েছে সম্ভাব্য ষষ্ঠ স্থানে। ধারণা করা হচ্ছে, পরের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে আর দেখা যাবে না। স্বাগতিক মরক্কোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর অবস্থানও সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীদের তালিকায় অনেক নিচে।