Home আঞ্চলিক পিতৃহারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের পাশে কৃষি ব্যাংক ও জেলা প্রশাসন: মিলছে সর্বাত্মক...

পিতৃহারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের পাশে কৃষি ব্যাংক ও জেলা প্রশাসন: মিলছে সর্বাত্মক মানবিক সহায়তা

14


স্টাফ রিপোর্টার
বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতে এটিএম বুথে সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের অদম্য তরুণ ইকনের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। দৈনিক কালবেলায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে দেশ-বিদেশের অসংখ্য হৃদয়বান মানুষ ও প্রতিষ্ঠান ইকনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় ইকনের হাতে ১ লাখ টাকার সহায়তার চেক তুলে দেন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হাশেম মিয়া। একই সাথে পরীক্ষার এই সময়ে তাকে বেতনসহ এক মাসের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থ হস্তান্তরকালে মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. তরিকুল ইসলাম খান, শাখা ব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল ইসলামসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে সকালে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ইকনের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউদ্দিন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ আতিয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন।


ইকনের পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন। বুধবার রাতে মন্ত্রীর পিএস ফারহান ইশতিয়াক মুঠোফোনে ইকনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ‘লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান সিপিএ মো. রফিকুল ইসলাম জগলুও ইকনের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


উল্লেখ্য, বাগেরহাট শহরের ৪ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় মানসিক ভারসাম্যহীন ভাই ও মাকে নিয়ে বসবাস করা ইকনের বাবা ইসরাফিল দাগিয়া গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম বাবাকে হারানোর দিনেও রাতে পরিবারের তাগিদে এটিএম বুথে ডিউটি ও পড়াশোনা শেষে পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ নেয় ইকন। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য কালবেলার প্রতিনিধি তুলে ধরলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে মানবিক অনুভূতির সৃষ্টি হয়।